ঊনত্রিশ.
পরদিনটা যেন আর কাটতে চায় না। স্কুলে গিয়েও ওই একই জিন তাড়ানোর গল্প। সবই শোনা গল্প। কেউ কখনো নিজের চোখে দেখনি। শুনেছে, তখন নাকি মানুষের শরীরে দানবীয় শক্তি ভর করে। আস্ত বটগাছ উপড়ে ফেলতে পারে, তালগাছের মাথায় উঠে বসতে পারে, দশ মণি পাথর উঁচু করে নিয়ে যেতে পারে! শুনে শুনে প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার কৌতূহল আমার আরো বেড়ে গেল।
স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরেই মায়ের কাছে আবদার জানালাম। মা প্রথম বাক্যেই নাকচ করে দিলো। ‘বড়দের ব্যাপার, ভয়ের ব্যাপার। ছোটদের যেতে নেই।’
বিকেল আসছে গুটি গুটি পায়ে। দম ধরে রইলাম। এর মধ্যে মনে মনে পাখিকে অনেকবার স্মরণ করেছি। দেখা নেই। সেই সুশান্তদার মৃত্যুর পরে পাখি লাপাত্তা। এতদিনে একবারও আসেনি। না বাস্তবে, না স্বপ্নে।
পাখি এলে একটা বুদ্ধি ঠিকই বের করে ফেলত। কিন্তু ওকে আনা যায় কিভাবে? বাগানে গিয়ে পেয়ারা গাছের আড়াল করে দাড়ালাম।
পাখিকে দেখতে পেলাম। পেয়ারা গাছের ডালটাতে বসে পা দোলাচ্ছে। শরীর ভিজে। কিন্তু টপটপ করে কোনো পানি পড়ছে না।
মুখ তুলে উপরের দিকে তাকালাম। পাখির মুখটা কেমন যেন হাসি হাসি!
পাখি পথ বাতলে দিল কিনা জানি না। তবে সখিনাবুর বাড়ি থেকে একজন মাকে ডাকতে এলো। ডাক্তারের বউ এবং সম্মানিত প্রতিবেশী হিসাবে ওরা মাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমি যাবো আবদার করতে ওরা তাতেও রাজি হলো। এমনকি আপুও দেখতে যেতে পারবে।
আমার মনে হলো, এই ব্যবস্থাটুকু পাখিই করে দিয়েছে। পাখি আমার উইশফুল থিংকি! (চলবে)