তেতত্রিশ.
বাড়িতে এসেই আপু বলল, ‘টাকা কামানোর ধান্ধা। এক মক্কেল শেষ করে আরেক মক্কেল জুটানো।’
মা কিছুই বলল না। চিন্তিত স্বরে মিনু খালাকে দিয়ে ঘরদোর একজন অতিথি আসার উপযোগী করে তুলতে লাগল।
আমাদের বাড়ি থেকেই জিন ছাড়া পেয়েছে সেজন্যই হয়তো এই বাড়িতে আসতে চাচ্ছে, কিন্তু আমাকে দেখানোর মানে কী? আমি তো জিন ছাড়ি নাই। ছেড়েছে সবুর। দেখালে ওকেই দেখাক।
আধা ঘণ্টা পর দু-চারজন উৎসুক গ্রামবাসীসহ জিনসাধক আমাদের বাড়িতে এলেন। মায়ের মুখের কাঠিন্য দেখে জিনসাধক গ্রাম্য লোকগুলোকে চলে যেতে অনুরোধ করলেন। ওরা চলে গেলে বললেন, ‘বেশিক্ষণ বসব না মা। দুটো কথা বলেই চলে যাবো।’
মা ইতস্তত করে বলল, ‘একটু সন্ধ্যে নাস্তার আয়োজন।’
‘এখন কিছু মুখে তুলব না। কাজের মধ্যে থাকলে মুখে দেয়ার নিয়ম নেই।’ জিনসাধক ইশারা করে আমাকে ডাকলেন। তার সামনে বসতে বললেন। আমি বসলাম। জিনসাধক অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘মা, আপনার এই ছেলের সাথে একটা বাইরের আত্মা ঘোরাফেরা করে। মাঝে মাঝে আসে। আপনার ছেলে ব্যাপারটা জানে।’
আমি মাথা নিচু করে রইলাম।
মা অবাক চোখে আমার দিকে তাকাল। যেন আমার মুখ থেকে কিছু শুনতে চায়।
জিনসাধক আবার বলল, ‘আত্মাটা ভালো কি খারাপ তা আমি বলতে চাই না। তবে একটা আত্মাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা বা নিজেই আত্মার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া কোনোটাই শুভ নয় মা।’ (চলবে)