বালুবাটানের কথা বলছি। অন্য বাংলা নাম চা পাখি। ইংরেজি নাম Marsh sandpiper. বৈজ্ঞানিক নাম Tringa stagnatilis.
বালুবাটানের লম্বা পা, সুন্দর লম্বাটে ঠোঁট এবং ২৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যরে ছোট দেহ একে পাখির জগতে স্বতন্ত্র করে রেখেছে। প্রজনন ক্ষমতাপ্রাপ্তির আগে এদের দেহের উপরের অংশ ধূসর বাদামি বর্ণের এবং বুক ও ঘাড় সাদা বর্ণের হয়। প্রজনন ক্ষমতাপ্রাপ্তির পর এদের মাথা ও ঘাড়ে গাঢ় বাদামি বর্ণের ডোরা দাগ দেখা যায়। লম্বা পা দুটোর বর্ণ হলুদাভ সবুজ।
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বালুবাটানের বসবাস। যদিও অন্যান্য উপকূল এলাকা এবং দেশের অভ্যন্তরেও এদের দেখা যায়। পশ্চিম ইউরোপ থেকে শুরু করে পশ্চিম সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, উত্তর চীনে এরা প্রজনন সম্পন্ন করে। প্রজনন ঋতুর পরে এরা দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ ইন্দোনেশিয়া, বর্নিও, সুমাত্রা ও নিউ গায়নায় বসবাস করে।
বালুবাটানকে সাধারণত একাকী, মাঝে মাঝে ঝাঁক বেঁধে স্বাদু অথবা লবণাক্ত জলাভূমি, নদী, জলজ তৃণভূমি, নর্দমা, লবণাক্ত উপহ্রদ অঞ্চলে চলাচল করতে দেখা যায়।
পরিযায়ী বালুবাটান আগস্ট থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে। এ পাখি জলজ পতঙ্গ, লার্ভা, মোলাস্ক এবং ক্রাস্টাসিয়ান জাতীয় পতঙ্গ খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। খাদ্যের সন্ধানে প্রায়ই এরা মাথাসহ লম্বাটে ঠোঁট কাদা বা অল্প জলে ডুবিয়ে দেয়।
জলাশয়ের ঘাসের ভেতর লুকিয়ে একটু গভীর করে ঘাস দ্বারা বালুবাটান বাসা তৈরি করে। বাসায় স্ত্রী পাখি ৪টি ডিম পাড়ে। ডিমের বর্ণ পাথুরে বা লালচে হলুদ এবং তাতে কালো রঙের ছিট থাকে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি উভয়েই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা প্রতিপালনে অংশ নেয়। ডিম ফুটতে ২৩-২৫ দিন সময় লাগে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপে জলাভূমি ধ্বংস, দূষণ এবং অবাধ শিকারের কারণে বালুবাটানের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বালুবাটান একটি পরিযায়ী পাখির নাম। শীতকালে পরিযায়ী হয়ে বাংলাদেশে আসে।