তেত্রিশ.

মা রাগি চোখে আমার দিকে তাকাল, যেন আত্মাটা কোনো অশুভ খেলনার মতো, আমি কুড়িয়ে পেয়েছি। তারপর বলল, ‘হুজুর কি বলছে কানে যাচ্ছে না?’
‘উত্তেজিত হবেন না মা। আমি দেখছি। বাবা, বলো তো একটা মানুষ যার শরীর নেই, ধোঁয়ার মতো তোমার সাথে মাঝে মাঝে দেখা দেয় না?’
আমি বুঝতে পারলাম জিনসাধক কার কথা বলছে। পাখির কথা। এখন যদি আমি স্বীকার করি, তাহলে জিনসাধক সখিনাবুর কাছ থেকে জিন তাড়ানোর মতো আমার কাছ থেকে পাখিকে একেবারে চিরদিনের জন্য তাড়িয়ে দেবে। কিন্তু পাখিকে ছাড়া আমি যে বড় নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ব।
আমি দুদিকে মাথা নাড়লাম। মুখেও বললাম, ‘না, কিছু দেখি না।’
জিনসাধক মৃদু হেসে বললেন, ‘আপনার ছেলে মিথ্যে বলছে মা।’
‘ওদের আমরা মিথ্যে বলা শেখাইনি।’
‘বাইরের থেকে শিখেছে। মিথ্যে বলা কাউকে শেখানো লাগে না। আপনার ছেলে মনের দিক থেকে কুচক্রে জড়িত। আপনার মেয়েও।’
মা চমকে উঠল। মেয়ের ব্যাপারটা মা নিজে সাক্ষী। এক রাতের ঘটনা যদি জিনসাধক জেনে থাকে ঠিক ঠিক বলে দিতে পারে, তাহলে তো আমার ঘটনাও মা বিশ^াস করে বসবে। মা হঠাৎ উঞ্চ স্বরে বলল, ‘কি সব আবোলতাবোল বকছেন। নিষ্পাপ দুটো ছেলে-মেয়েকে দোষারোপ করছেন। আমি বসে বসে আমার ছেলে-মেয়েদের নিন্দে শুনব না। ভদ্রভাবে বলছি, আপনি চলে যান। ওর আব্বা এখনো বাড়িতে আসেনি। এই অবস্থায় আপনার থাকা ঠিক না।’
(চলবে)