পঁয়ত্রিশ.
মা বিরক্ত স্বরে বলল, ‘ঠাট্টা মশকরা কইরো না। মেয়ের মেট্রিক পরীক্ষাটা না হয়ে গেলে সমস্যা। কিছুটা সময় চোখে চোখে তো রাখতেই হবে।’
মিনু খালা ফিসফিস করে বলল, ‘কাউকে মোটেও বাড়িতে একা একা থাকতে দিও না। হুটহাট ---।’
‘ধুর, অত সাহস পাবে না। আর তুমি সব সময় বাড়িতে থাকবা।’
‘আমি তো থাকিই। ছোটভাইরেও কইয়েন একটু চোখে চোখে রাখতে।’
‘থাক, দরকার নেই। এসব বলে এই বয়সে ওকে পাকিয়ে দিতে চাই না। তুমিও কিছু বলো না।’
আমি ওখান থেকে সরে এলাম। যে কথাগুলো আমার শোনার কথা না তা শুনে ফেলেছি, আর বেশি শোনা ঠিক না।
সবুর আমাদের ক্ষেত বাগান আর বিলের জমির মুনিষ। বাড়ি পাশের গ্রামেই। বাড়িতেই থাকে। সকালে এসে কাজে যোগ দেয়, রাতে বাড়ি যায়। তিন বেলা খাওয়াও আমাদের বাড়িতে। সে কারণে বাড়িতে ওর আনাগোনা মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে। তাছাড়া আব্বা বাড়িতে থাকলে কিছু ক্ষেতের কাজ, ডাবটা পেড়ে আনা এসব করে। এতদিন বেশ ভালোভাবেই চলছিল, কিন্তু ইদানীং কেমন যেন দরকারে অদরকারে ঘন ঘন বাড়িতে আসছে। বাগানে পড়ে থেকে কাজ করছে। আমি নিজেও দেখেছি, আপু যখন পুকুরে গোসল করতে যায়, সবুরের তখন বাগানে কোনো না কোনো কাজ পড়বেই।
সবুরের সাথে আমার সম্পর্ক খুব একটা ভালো না, খারাপও না। খারাপ না এজন্য বললাম, আমার দরকারে অনেক সময় মুখবুজে অনেক কাজ করে দেয়। আর ভালো না বললাম, কোনো কথা বললে জবাব দেয় না, অনেক সময় শোনেও না। (চলবে)