আটত্রিশ.
পুকুরের পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পানির নিচ থেকে আমাদের চিরপরিচিত ডানকোনা মাছ পায়ে কুটকুট করে কামড়ে মরা চামড়া তুলছে। এতদিন ভয় পাইনি। কিন্তু আজ যেন মনে হলো ওগুলো মাছ না হয়ে অশরীরী প্রাণীই তো হতে পারে! আমাকে পা ধরে পানির নিচে পাতালে টেনে নিয়ে যাবে না তো!
তাড়াতাড়ি ঘাটে উঠে এলাম।
গোসল অর্ধ সমাপ্ত রেখে ঘাটে উঠতে দেখে আপু বলল, ‘কি হলো? গোসল শেষ না করে উঠে গেলি কেন?’
‘পায়ে কি যেন ঠোকর দিচ্ছে।’
‘মাছ। ডানকোনা মাছ। পুকুর ভর্তি। খাওয়াও যায় না।’
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ওগুলো ডানকোনা মাছ নয়, হয়তো মাছের রূপ ধরে অশরীরী কিছু।
‘বাঁশঝাড়ের মধ্যে কে যে আছে আপু। আমার ভয় করছে।’
‘ভয়ের কী আছে। ভূতপ্রেত না। মানুষ। সবুর।’
‘তুমি জানো কিভাবে?’
‘মেয়েরা অনেক কিছুই টের পায়।’
‘মাকে ডাক দোবা।’
‘থাক। আমার গোসল করা শেষ। তুই তাড়াতাড়ি ডুব দিয়ে উঠে আয়।’ আপু পানি থেকে ভালোভাবে ওড়না জড়িয়ে উপরে উঠে এলো।
আমিও উঠে এলাম। এরকম কল্পনার পরে পুকুরের পানিতে ডুবানোর সাহস আমার নেই। টিউবওয়েল চেপে মাথায় পানি দিয়ে নেবো।
আপু আগে আগে বাড়ির দিকে চলে গেছে। আমি পিছে পিছে আসছি। তখনই বাঁশঝাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম সবুর একটা দা আর কঞ্চি হাতে বাঁশঝাড়ের দিক থেকে বেরিয়ে আসছে। (চলবে)
আটত্রিশ.পুকুরের পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পানির নিচ থেকে আমাদের চিরপরিচিত ডানকোনা মাছ পায়ে কুটকুট করে কামড়ে মরা চামড়া তুলছে। এতদিন ভয় পাইনি। কিন্তু আজ যেন...
