একান্ন.

বাদরে দু ঠ্যাং উপরে দিয়ে ঝুললে যেমন হয়। আমাদের এ গ্রামে বাদরের তেমন উপদ্রব নেই, তবে মাঝেমধ্যে অন্য গ্রাম থেকে হনুমান এসে হানা দেয়! কিছু হিন্দু ভক্তিভরে কলা ফল মুল দিয়ে সেবা করে। ছোটরা ছড়া কাটে, ‘আয় হনুমান কলা খাবি/ জয় জগন্নাথ দেখতে যাবি?’ হনুমান খেয়ে দেয়ে আবার চলে যায়। সেইরকম কোনো হনুমান মনে হয় ঘরের দরজা খোলা দেখে ভিতরে গিয়ে আড়ায় উঠে বসে আছে।
ল্যাম্প নিভে গেছে ঘর থেকে বেরিয়ে আসব তখনই আড়ার দিক থেকে দুহাত নামিয়ে কেউ যেন আমার গলা চেপে ধরল। হনুমান হোক আর প্রেতাত্মা হোক এত জোরে আমার গলা চেপে ধরেছে যে আমার মুখ দিয়ে আর কোনো শব্দই বের হলো না। শুধু জোরে চেপে ধরেছে তাই না, সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে উপরের দিকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। মাটি থেকে আমার পা আরেকটু উপরে তুলতে পারলেই গলায় ফাস এটে বসার মতো শ^াসরোধ হয়েই মারা যাবো আমি।
তখনই হঠাৎ করে আমার মনে হলো, চারিদিকের হাওয়া কেমন যেন একটা ভেজা ভাব। কেউ যেন মিলাদের সময় গোলাপ পানি ছিটানোর মতো করে পানি ছিটাচ্ছে। শুধু পানির অনুভবই নয় আমার মনে হলো এক ধরনের আলোর আভা যেন আসছে ঘরের এক কোন থেকে। গলায় ফাঁসের চাপের মধ্যেও ছানাবড়া চোখে আলোর আভার দিকে তাকিয়ে দেখলাম বইয়ের আলমারির উপর থেকে পা ঝুলিয়ে পাখি বসে আছে। পানিতে ভেজা পাখির শরীর থেকে সাদাটে এক ধরনের ভৌতিক আলো ভেসে আসছে। (চলবে)