দুই.
ইচ্ছে করছে বেঞ্চির ওপর শুয়ে পড়ি।’
‘তুই এত রোগা যে কি বলব। তোকে দেখে আমারই খারাপ লাগছে। নিজেকে রোগী রোগী মনে হচ্ছে। তুই এক কাজ কর। ইচ্ছে যখন করছে বেঞ্চির ওপর শুয়ে পড়। ভূতেদের কত সুবিধা। যা ইচ্ছে হয় তাই পূরণ করা যায়।’
রোগা ভূত বেঞ্চির ওপর শুয়ে পড়তে পড়তে বলল, ‘কথাটা কিন্তু ঠিক না। ইচ্ছে পূরণ হয় না। তোর ইচ্ছে মোটা থেকে স্লিম হওয়া। যার জন্য তুই দিনরাত জগিং ফগিং করে মরছিস। কিন্তু ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে কই। আমার বড় সুস্থ থাকতে ইচ্ছে করে। অথচ বছরের তিনশ পঁয়ষট্টি দিন অসুস্থ থাকি। লিপ ইয়ারে থাকি তিনশ ছেষট্টি দিন।’
মোটা ভূতের ইচ্ছে করছিল বেঞ্চেতে বসে। কিন্তু রোগা ভূত শুয়ে জায়গা দখল করেছে। যেটুকু জায়গা তাতে সে আটবে না। তার বসার জন্য গোটা বেঞ্চটাই দরকার। সে দেখতে ছোটখাটো একটা পিরামিডের মতো। পিরামিডের ওপর তালের আঁটির মতো ছোট মাথা। তাতে চোখ নাক মুখ বোঝা যায় না। কিন্তু কথাবার্তা হাবভাবে বোঝা যায় জিনিসগুলো আছে।
মোটা ভূত সহানুভূতির স্বরে বলল, ‘তোর কথায় তো যুক্তি আছেরে রোগা ভূত।’
‘বারবার রোগাভূত বলে ডাকলে ভালো লাগে না। একেতে আমি চিররোগা। তারপর কারো মুখে সেটা বারবার শুনতে ভালো লাগে!’
মোটা ভূত রেগে যেতে থাকে, ‘তু-তু-তুই তো আ-আ-আমাকে মো-মো-’
‘ঠিক আছে আর তুতলিয়ে রাগ দেখাতে হবে না। আমিও তোকে মোটা ভূত বলে ডেকেছি, এই তো।’
পাহাড়ের উপর থেকে ফোস করে শব্দ এলো ‘হু।’ (চলবে)
