ছয়.
যেদিন বন্ধুর সাথে জন্মের মতো ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে। সেদিন ছড়াটা শুনিয়ে দেবে।
গাবগাছ যেন এক ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। আর আব্বাছ খাঁ একটানা নড়তে থাকে। এই তার পাশে এসেও পাক খাচ্ছে। চরকির মতো। যেন সে ট্রেনের পিছনে ছুটছে। পোশাকেরও বাহার দেখ। রঙচটা সোনালি রঙের ক্যাপ মাথায়। শুকনো মানুষ হাতাকাটা গেঞ্জি কেউ গায় দেয়! খ্যাংরাকাঠির মতো কালো কালো লিকলিকে হাতগুলো বেরিয়ে আছে। গেঞ্জির রঙও সোনালি। ট্রাউজার কড়া লালচে রঙের। এরকম রুচির একজনের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়ে গেছে বলে সে ফোস করে শ্বাস ছাড়ে।
আব্বাছ খাঁ হাত পা ছোড়াছুড়ি করছে।
শারাফাত আলীর গেঞ্জি চিপা শেষ। সে গেঞ্জি ধরে ঝাঁকি দিয়ে বলল, ‘কী খবর খাঁ সাহেব? বান্দরের মতো লাফালাফি করছেন কেন?’
‘সেইটা আপনি বুঝবেন না। দুই কদম হাঁটতেই আপনার দম ফুরিয়ে যায়।’
‘আপনার মতো তো আর পাটকাঠি না। বাতাসের সাথে উড়ব।’
‘অ। গন্ধমাদন পবর্তের মতো দশজনের জায়গা মেরে দেয়া ভালো।
‘কোনটাই ভালো নয়। হাতির মতো মোটাও ভালো নয়। পাটকাঠির মতো শুকনোও ভালো নয়।’
‘আমিও তো সেইটা বলতে আসছিলাম। এসে দেখি আপনি গেঞ্জি চিপা ভর্তা বানাচ্ছেন।’
‘ভর্তা বানাচ্ছি না। শুকাচ্ছি। ঘামে ভিজে গিয়েছিল।
‘ও আচ্ছা। তাই বলেন। আমি ভাবলাম আজ সকালে গেঞ্জির ভর্তা খাবেন।’
শারাফাত আলী মনে মনে গালি দিলো।
(চলবে)প্রিন্স আশরাফ