তেরো.
শারাফাত আলী ভয় পেয়ে বললেন, ‘না না, ওই ডাক্তারের কাছে আর না। যা বদমেজাজী ডাক্তার।’
আব্বাছ খাঁ হে হে করে হেসে বললেন, ‘কি যে বলেন না! ডাক্তার তো মাটির মানুষ। আমার ভয়ে কেচোর মতো হয়েছিল।’
‘আমার কি মনে হয় জানেন আব্বাছ ভাই, এই ওষুধের নিয়মই ওই রকম। প্রথমে একেবারে কাজ বাড়িয়ে নিয়ে তারপরে আসল কাজ শুরু করে।’
‘মানে? আগে আপনাকে পিপের মতো করে নেবে আর আমাকে পাটকাঠির মতো। তারপর ওষুধে কাজ দেবে।’
‘তাই তো মনে হয়।’
‘তাহলে পুরো ডোজ শেষ করি কী বলেন?’
‘অবশ্যই। তবে....’
‘থামলেন কেন? তবে কী?’
‘ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছি না। ওষুধটা খাওয়ার পর থেকে না আমার মধ্যে কেমন যেন...
‘কেমন যেন কী? আপনার এই এক দোষ? কথা শেষ করেন না।’
শারাফাত আলী মুখ চুন করে বললেন, ‘মানে... কথাটা যে কিভাবে আপনাকে বলি...’
‘ওরকম মিনমিন করেন কেন? আমার মতো বাজখাই গলায় ফট করে বলে ফেলেন।’
‘মানে ওষুধটা খাওয়ার পর থেকে আমার মাথা না কেমন জানি আওলা হয়ে গেছে।’
‘আপনার মাথা তো আওলা। আবার নতুন করে কী আওলা হবে।’ আব্বাছ খাঁ এক গাল হেসে বললেন।
‘আরে সেরকম না। কাল গদিতে ছিলাম। এক গরিব রিকশাওয়ালার সুদের টাকা দেয়ার কথা। দিতেও এসেছিল। মাথাটা কেমন জানি আওলা হয়ে গেল। ব্যাটার করুণ মুখ দেখে মাফ করে দিলাম। এমন করলে আমার সুদের ব্যবসা চলবে!’ (চলবে)