একুশ.
গুটলু ছুরি হাতে আব্বাছ খাঁর ঘাড়ের কাছে এসে পড়ল।

আব্বাছ খাঁর ভেতরে থাকা টাভু চমকে উঠল। সে একটু বোকা কিছিমের। বুদ্ধিশুদ্ধি যা দরকার গাভুই দিয়ে থাকে। এখন আশপাশে গাভু নেই। যা করা দরকার তা তাকেই করতে হবে।
এখন যদি ওই গুণ্ডা তার আব্বাছ খাঁকে খুন করে তাহলে সে কী করবে? সে খুনের সাথে ওই দেহে কি আটকা পড়ে যাবে? তার মানে মৃত্যু? ভূতেরও কি মৃত্যু হয়? গাভু থাকলে ঠিক ঠিক বলতে পারত।
রিস্ক নেয়া ঠিক হবে না। এর চেয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে পড়াই ভালো।
টাভু বেরিয়ে পড়ল।
বেরিয়ে কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। সে কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। অস্ত্রধারী মানুষকে কিভাবে ভয় দেখাতে হয় তা সে ভুলে গেছে। কিন্তু ছুরি হাতে গুটলু আরেকটু হলেই আব্বাছ খাঁর গলায় ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ছুরি দেখে ভয় খেয়ে গেল টাভু। ভয়ে আব্বাছ খাঁর শরীর থেকে বের হতে গিয়ে পিছলে পড়ে গেল।
ছুরি হাতের গুটলু আব্বাছ খাঁর পাটকাঠির মতো শরীর থেকে সুমো কুস্তিগীরের মতো বিশালদেহী এক ছায়ামানুষ বের হতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। তার হাত থেকে ছুরি খসে পড়ল। আব্বাছ খাঁর শরীর থেকে বিশাল এক ভূত বের হতে দেখে গুটলু পড়িমড়ি করে পালানোর বদলে গোঁ গোঁ শব্দ করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।
আব্বাছ খাঁ ভূতটাকে দেখতে পাননি। তিনি গুটলুকে ওভাবে তার পাশে এসে কাটা কলাগাছের মতো সটান দেখে অবাক হয়ে গেলেন। অন্ধকারের মধ্যে ছুরিটা তার নজরে পড়ল না। (চলবে)