এক.
ঘটনাক্রম
বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাবার বদলির সুবাদে শহরের নতুন স্কুলে ভর্তি হয় সজীব। পুরাতন স্কুল বাদ দিয়ে একই ক্যাম্পাসের মধ্যে নতুন স্কুল বিল্ডিং তোলা হচ্ছে। স্কুল বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে। নতুন স্কুলের ক্লাসরুম সব রেডি না হওয়ায় পুরাতন স্কুলের কিছু ক্লাসরুম ব্যবহার করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী স্কুল বলে ভেঙে ফেলা হচ্ছে না। সজীবের ক্লাস পুরাতন স্কুলে। পরিত্যক্ত একটা অংশ আছে স্কুলের। ওদিকে কেউ তেমন একটা ঘেঁষে না। ওখানেই কিংবদন্তির মতো একটি পরিত্যক্ত রুম আছে। ক্লাস রুম ৩৬৫। কোনো একজন ছাত্র ফাজলামো করে ৩৬৫ লিখে দিয়েছিল। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ লাল কালির ক্রস দিয়ে কেটে দিয়েছে।
স্কুলে ছোটখাটো র‌্যাগিং সিস্টেম আছে। তাও বছরের শুরুতে। মাঝামাঝি সময় র‌্যাগিং হয় না। কিন্তু সজীবের ভাগ্যটা খারাপ। স্কুলে ঢোকার তিন দিনের মাথায় সে ধরা খেয়ে গেল। কৌতূহলের বশে নতুন স্কুলের কন্সট্রাকশনের কাজের ওখানে টিফিন পিরিয়ডে এসেছিল। ফাঁকা বিল্ডিং। উপরে ছাদ হয়নি। ওখানে ক্লাস টেনের তিনজন দুষ্ট ছাত্র এসেছিল। সজীবকে দেখে চমকে গেল। কিন্তু চমকানি বন্ধ করে হাত ইশারায় ওকে ডাকল। কোন ক্লাসে কবে ভর্তি হয়েছে জেনে নিলো। তারপর বলল, তোর তো র‌্যাগিং হয় নাই। চল র‌্যাগিং করে আসি। র‌্যাগিং কী সজীব জানে না। ওরা হাত ধরে তাকে প্রায় হিড়হিড় করে টেনে চলল। টিফিন পিরিয়ডে অনেকে বাড়িতে যায়। বেশির ভাগই মাঠে খেলতে যায়। (চলবে)