দুই.
কাজেই সজীবের দিকে কারোর নজর পড়ল না। আর দু-একজন দেখলেও তেমন পাত্তা দিলো না। এখনো ওর তেমন কোনো বন্ধুবান্ধব গড়ে ওঠেনি।
ক্লাস টেনের তিন ছাত্র সজীবকে নিয়ে গেল পুরানো বিল্ডিংয়ে। ঢুকিয়ে দিল পরিত্যক্ত ক্লাস রুম ৩৬৫এ। তারপর বাইরে থেকে শিকল টেনে দিলো।
সেদিন বিকালে ছুটির আগে স্কুলে একটা দুর্ঘটনা ঘটল। কনস্ট্রাকশন কাজের সময় তিনতলা উঁচু থেকে একটা ছোট বাঁশ নিচে পড়ল। পড়ল ক্লাস টেনের এক ছাত্রের মাথায়। মারাত্মক জখম হওয়ায় সবাই ছোটাছুটি করে তাকে নিয়ে গেল হাসপাতালে। এই ঝামেলায় সজীবকে পরিত্যক্ত রুমে ঢুকিয়ে দেয়ার কথা তিন ছাত্রের আর মনে এলো না। ওরা বাড়ি চলে গেল। সজীবকে রেখে সেদিন স্কুল ছুটি হয়ে গেল।
ক্লাস রুম ৩৬৫ প্রথমে ক্লাস রুম থাকলেও পরে স্কুলের বিজ্ঞান গবেষণাগার বানানো হয়। বিজ্ঞানের হরেক যন্ত্রপাতিতে ভর্তি হয়ে থাকে রুমটা। আর এই রুমটা বিজ্ঞান রুম তৈরি করেন স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক মিস্টার এক্সম্যান। ব্যাচেলর এক্সম্যান স্কুলের বিজ্ঞান ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন। শেষে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তিনি বিজ্ঞান রুমেই থাকতে শুরু করেন। একদিন মিস্টার এক্সম্যান নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায় না। বিজ্ঞান রুমে তার পরিধেয় জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাতে রক্ত মাখা। সবাই ধারণা করেন এক্সম্যান খুন হয়েছেন। খুনিরা লাশ গুম করে ফেলেছে। (চলবে)