সারস পাখিটির বয়স হয়েছে। এখন আর আগের মতো মাছ ধরতে পারে না সে। জলার ধারে একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা এখন বড় কষ্টের মনে হয় তার কাছে। এ কাজ এখন সাজে না তার। আর কত কাল? এবার কৌশলে মাছ ধরতে হবে। সে জলার ধারে যাবে, টেংরা-পুঁটি স্বেচ্ছায় তার কাছে আসবে। সে লম্বা ঠোঁট দিয়ে ঠোকর মেরে মুখে তুলে নেবে। ব্যাস। খাওয়া দাওয়া শেষে উড়ে চলে যাবে নিজের বাসায়। তারপর দারুণ এক ঘুম। আহ্, এটাই তো জীবন। কেন যে শুধু শুধু একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা?
কিন্তু সারসের কি সেই কপাল আছে? মাছ কি এমনি এমনি এসে ধরা দেয়? তাকে জলার ধারে নামতে হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তাও আবার দুই পায়ে নয়, এক পায়ে। তারপর ভুলবশত একটি দু’টি মাছ হয়তো কাছে আসবে। তখন লম্বা ঠোঁট দিয়ে খপ করে ধরে খাবে। এ বয়সে এসব আর মানায় না। সে হলো সারস পাখি। রাজকীয় পাখি। এক কথায় বুদ্ধিমান বক। আর ১০টা বকের মতো তো নয় সে।
ছোট্ট জলার ধারে যে উঁচু হিজল গাছটি আছে, তার মগডালে বসা বকটি। কী করা যায়? কী করা যায়? মনে হাজারো বুদ্ধি। কূটবুদ্ধিরও অভাব নেই তার। মাথায় এত বুদ্ধি থাকতে কষ্ট করে মাছ ধরা কেন? (চলবে)