চার.

রুমের শেষ মাথায় একটা ছোট চেয়ার টেবিল। সে দিকে এগিয়ে গেল। টেবিলের ওপর খাবারের ভুক্তাবশেষ। সেগুলো দেখে সজীব চমকে উঠল। মোটামুটি টাটকা। বড়জোর কালকের হবে।
একটুখানি মুখেও দিলো। হুঁ এখনো ততটা নষ্ট হয়নি। খেতে খেতেই বুঝতে পারল কিছু একটা ভুল হচ্ছে। এই ঘরটা যদি পরিত্যক্ত হয়েই থাকবে তাহলে এখানে বসে খানা খাবে কে? তার মানে কেউ একজন এখানে আছে অথবা আসে। রাত যাপন করে। সেই হয়তো ভূতের ভয় দেখিয়ে সবাইকে দূরে সরিয়ে রাখে।
ভয়ে সজীবের গা হাত পা কাঁপতে লাগল। মানুষ অথবা ভূত যেই আসুক এইখানে তাকে দেখে যে খুশি হবে না তাতো বোঝাই যায়। পেটে একটু কিছু পড়ায় শরীরের বলের সাথে মনেরও জোর পাচ্ছে। দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান সজীবের কব্জির জোর বেশ। প্রতিপক্ষের ফুলটস বলকে সীমানার বাইরে পাঠাতে তার খুব বেগ পেতে হয় না। সজীব একটা ভাঙা চেয়ার পেল। চেয়ারের একটা পায়া ছাড়ানো। সেটাকেই ব্যাটের মতো হাতে বাগিয়ে ধরে বসে রইল। বসে থাকতে থাকতে তার ঝিমুনি পেয়ে গেল। মশার কামড়। খুঁজে পেতে একটা পুরনো মশার কয়েল পেল। ধরিয়ে দিল। ধোঁয়ায় ভরে গেল সারাঘর। আর সেই ধোঁয়ার মধ্যে মনে হচ্ছে কিছু একটা পাক খেয়ে উঠছে। আলাউদ্দিনের সেই প্রদীপের জীনের মতো। কিন্তু সেটা শূন্য থেকে পাক খেয়ে ওঠেনি। সম্ভবত কোনো গোপন কুঠরি থেকে উঠে এসেছে।