পাঁচ.
সজীব ধোঁয়ার মধ্যে অদ্ভুত জীবটাকে লক্ষ করে ব্যাট দিয়ে সজোরে বাড়ি কষাতে গেল। কিন্তু গরিলার মতো বড় বড় লোমে ঢাকা জীবটা ঠিক মানুষের মতো দুপায়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সামনের পাটাকে হাতের মতো ব্যবহার করে সজীবের ব্যাটটা ধরে ফেলল। তারপর ঠিক মানুষের মতো কিন্তু একটা মোটা কর্কশ স্বরে থেমে থেমে বলল, ‘আমাকে... মেরো... না।
আমি... তোমার... কোনো...ক্ষতি করব না।’ লোমশ শরীরের শিম্পাঞ্জির মতো প্রাণীটি যদি তার ওপর শিকারি জন্তুর মতো হামলে পড়ত তাহলেও বোধ হয় সজীব এতটা অবাক হতো না, যতটা অবাক হলো জীবটার মানুষের গলায় কথা বলায়। রূপকথার জীবজন্তু কথা বলতে পারে, ব্যাঙ কথা বলে রাজকুমার হয়। তাই বলে এই কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেপ পিসি, আইফোন, ইন্টারনেটের যুগে! নিজের কানে না শুনলে সজীব জীবনেও বিশ্বাস করত না। সজীবের ব্যাট ধরা হাত থেমে গেল। বলা ভালো, থামতে বাধ্য হলো। কারণ জীবটা হাত দিয়ে ব্যাটটাকে ধরে রেখেছে, যদি ওই লোমশ বিশাল বাহুটাকে হাত বলা যায়। সজীব যে ভয় পেয়ে দৌড়ে পালাবে সে উপায় নেই।
দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। জীবটার সুকুমার রায়ের ছড়ার মতো ভয় পেয়ো না ভয় পেয়ো না তোমায় আমি মারব না। সত্যি বলছি কুস্তি লড়ে তোমার সাথেু পারব না স্টাইলে কথা বললেও অবয়বই ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে।
(চলবে)
