জানো, বিশ্বের সুন্দরতম পাখিগুলোর একটি সুপারব ফেয়ারি-রেন? এটি অস্ট্রেলিয়ার দেশজ পাখি। এ পাখিকে বাংলায় খাসা পরী-পাখি বলা যায়। এ পাখি সুপারব ব্লু-রেন নামেও পরিচিত। তার মানে একে খাসা নীল-পাখিও বলা চলে।
সুপারব ফেয়ারি-রেন একটি গায়ক পাখি। নজরকাড়া সৌন্দর্যের কারণেই সম্ভবত এর নাম হয়েছে সুপারব ফেয়ারি-রেন। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখিটির সৌন্দর্য আরো বাড়ে। কারণ এ সময় এর গায়ে রঙিন পালক গজায়। নতুন গজানো পালকে পুরুষ রেনের মাথার সামনের অংশ উজ্জ্বল নীল রঙ ধারণ করে। গলার রঙ গাঢ় নীল। প্রজনন ঋতুর বাইরে পুরুষ রেন অপরিণত।
স্ত্রী পাখির গায়ের রঙ ধূসর বাদামি।
সাধারণত এ পাখির দেহের দৈর্ঘ্য ১৪ সেন্টিমিটার। ওজন আট থেকে ১৩ গ্রাম। পুরুষ ফেয়ারি-রেন স্ত্রীটির চেয়ে আকারে সামান্য বড় হয়। লেজের দৈর্ঘ্য গড়ে পাঁচ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার। ঠোঁট তুলনামূলকভাবে লম্বা, সরু ও চোখা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার ছোট ঝোপঝাড় যেমন গুল্মজাতীয় উদ্ভিদসহ তৃণভূমি, ঘন বন, এমনকি ঘরোয়া বাগানেও এদেরকে বসবাস করতে দেখা যায়। এ ছাড়া এরা শহরের পরিবেশেও বেশ ভালোভাবে নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে পারে। এ কারণে এদেরকে সিডনি, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন ইত্যাদি শহরেও দেখা যায়। এদের প্রধান খাবার বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ। সম্পূরক খাবার বীজ।
ফেয়ারি-রেন সামাজিকভাবে একগামী। কিন্তু মিলনের ক্ষেত্রে বহুগামী। অর্থাৎ এরা সামাজিকভাবে একটি জোড় বাঁধে। কিন্তু জোড় বাঁধা সত্ত্বেও এরা একাধিক রেনের সাথে মিলনে অংশ নেয়। এরা বিভিন্ন রকমের প্রণয় আচরণ প্রদর্শন করে। তার মধ্যে একটি হলো সি হর্স ফ্লাইট। অর্থাৎ সামুদ্রিক ঘোড়ার মতো শরীর দুলিয়ে ওড়ে। এ ছাড়াও পুরুষ রেন হলুদ ফুলের পাপড়ি এনে স্ত্রীকে দেখিয়ে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। বসন্তের শুরু থেকে গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত এদের প্রজনন ঋতু। ঘাস ও মাকড়সার জাল দিয়ে এরা গোলাকার বাসা তৈরি করে। মাটির কাছাকাছি এক পাশ দিয়ে বাসার প্রবেশমুখ তৈরি করে। স্ত্রী ফেয়ারি-রেন তিন থেকে চারটি লালচে বাদামি ফোঁটা যুক্ত সাদা ডিম পাড়ে। ১৪ দিন ডিমে তা দেয়। সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চার চোখ বন্ধ থাকে। চোখ খুলতে পাঁচ দিন সময় লাগে।