সাত.

প্রাণীটি এবার নিজের দিকে তাকাল। তারপর কোথায় কিসের সুইচ টিপতেই গোটা ঘর এক ধরনের হলদেটে আলোয় ভরে গেল। সেই আলোয় সজীব দেখতে পেল মানুষের মতো একটা প্রাণী, গরিলার মতো লোমশ লোমে ঢাকা। প্রাণীটি গবষণাগারের একটা কাচের আলমারীর দিকে গেল। নিচের অবয়ব দেখতে পেল। তারপর একটা আর্তনাদ করে মুখ ঢেকে বসে পড়ল।
সজীব কি করবে বুঝতে পারছে না। সে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। প্রাণীটি তার খাবার দেয়ার কথা বললেও সেরকম কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
প্রাণীটি ধীরে ধীরে মানুষের মতো করে উঠে দাঁড়াল। তারপর ধরা গলায় বলল, আমাকে দেখে তুমি কোনো ভয়ঙ্কর জন্তু ভাবছ! আমাকে অবশ্য দেখাচ্ছেও সেরকম। আর এ কারণেই তুমি ভয় পেয়েছ।’ একটু থেমে আবার বলল, ‘শোনো, আমি কোনো ভয়ঙ্কর জন্তু নই। আমি মানুষই। নিজের ভয়ঙ্কর ভুলে আমার আজ এই অবস্থা হয়েছে।’
সজীব মানুষটার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
‘তোমার নাম কি? কোথায় পড়াশুনা করো? কোন ক্লাসে পড়ো? এখানে ঢুকেছ কিভাবে?’ মানুষটা একসাথে অনেক প্রশ্ন করল?
‘আমার নাম সজীব। আমি এই স্কুলে পড়াশুনা করি। ক্লাস সেভেনে। এখানে ক্লাস টেনের তিনজন বড় ভাই ভয় দেখাতে ঢুকিয়েছে।’
প্রাণীটি এবার নিজের দিকে তাকাল। (চলবে)