জানো, সেতার এ দেশের এক অন্যতম ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যযন্ত্র। সেতার শব্দটি ফার্সি। ‘সে’ অর্থ তিন। সেতার মানে তিন তারের সমাহার। সেতার নামটি রাখেন ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ আমির খসরু। প্রাচীনকাল থেকেই সেতার নামক বাদ্যযন্ত্রে তিন তারের ব্যবহার চলে আসছে। কিন্তু বর্তমানে কোনো কোনো সেতারে ১৮টি তার যুক্ত হলেও নাম সেতারই রয়ে গেছে। সেতার কাঠ ও তার দিয়ে তৈরি করা হয়। সেতারের প্রধান দু’টি অংশ দণ্ড ও লাউ। দণ্ডটি তৈরি হয় লম্বা এক টুকরো কাঠ দিয়ে। দণ্ডটি ফাঁপা। দণ্ডের বুকে এক টুকরো পাতলা কাঠ লাগানো হয়। একে পটরি বলে। লাউ অংশটি লাউয়ের খোলের মতো অর্ধেক করে কাটা, যা দণ্ডের প্রান্তে পটরির সমান্তরালে বসানো থাকে। সেতারের দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন থেকে চার ফুট ও দণ্ডের প্রস্থ সাড়ে তিন ইঞ্চি। লাউয়ের উপরে যে আবরণটি দিয়ে ঢাকা থাকে তাকে বলে তবলি। এ ছাড়া সেতারের বিভিন্ন অংশে থাকে সোয়ারি, পর্দা, কাঠের বয়লা, তারগহন, লোঙ্গুট প্রভৃতি।
সেতার দুই রকমের যথা- সাধারণ ও তরফদার। সাধারণ সেতারে তার থাকে সাতটি ও তরফদার সেতারে তার থাকে ১৮টি। তার পিতল বা জার্মান সিলভারের তৈরি। এসব তারে আঙুল চালিয়ে সেতারে সুর তোলা হয়। সেতার বীণা শ্রেণীর বাদ্যযন্ত্র। গ্রামবাংলার গানে সেতারের ব্যবহার নেই। সেতার মূলত বাজানো হয় শাস্ত্রীয় ও রাগসঙ্গীতের সাথে। পণ্ডিত রবিশঙ্কর এ উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন সেতারবাদক। ছবি : সংগ্রহ