মিয়ানমার একটি দেশের নাম। দেশটির সবচেয়ে উত্তরে ভারত ও চীন সীমান্তে কাচিন রাজ্যের অবস্থান। এ রাজ্যে বাস করে কাচিন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী।
ভাত কাচিনদের প্রধান খাদ্য। ভাত ও তরকারির সাথে এরা স্যুপও খায়। কাচিনরা বেশ শিকারপ্রিয়। এরা প্রাকৃতিক সবজিও সংগ্রহ করে। অনেক সময় এদের খাদ্যতালিকায় মাছ ও মুরগির গোশত থাকে। কোনো কোনো কাচিন নুডলস পছন্দ করে। কাচিনদের বেশির ভাগ খ্রিষ্ট ধর্ম অনুসরণ করে। কিছু বৌদ্ধ ও সর্বপ্রাণবাদীও রয়েছে। কাচিন ভূখ-ে আমেরিকান মিশনারি আসার আগে বেশির ভাগ কাচিন ছিল সর্বপ্রাণবাদী। কিছু আরাধনা করত বিভিন্ন দেবতার। ১৮৭৭ সালে খ্রিষ্টান
মিশনারি কাচিন এলাকায় কাজ শুরু করে।
কাচিনরা সাধারণত দোতলা বাড়িতে বাস করে। এগুলো তৈরি করা হয় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে। বাড়িগুলো দেখতে ডিম্বাকৃতির। প্রথমতলা ব্যবহার করা হয় ভাঁড়ার ও পশুশালা এবং দ্বিতীয়তলা মূল বাসস্থান হিসেবে। কাচিন নারীরা কালো জ্যাকেট পরতে পছন্দ করে। এগুলোতে রুপার কাজ করা থাকে। এরা পশমি স্কার্টও পরে, যা তৈরি করা হয় বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করে। পুরুষরা পরে কালো ও ঢোলা প্যান্ট বা লুঙ্গি এবং শার্ট। এরা মাথায় একধরনের পাগড়ি পরে।
কাচিন সমাজে আগে আত্মীয়দের মধ্যে বিশেষ করে মামাতো-ফুফাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ের প্রচলন ছিল। কাচিন সমাজে সাধারণত এক বিয়ে প্রচলিত; বহু বিয়ে নিন্দিত। একসময় বিয়েতে যৌতুকপ্রথা প্রচলিত ছিল। বর্তমানে এটি উঠে গেছে, টিকে আছে কেবল প্রতীকী হিসেবে।
কাচিনদের পূর্বপুরুষরা বাস করত তিব্বত মালভূমিতে। ক্রমাগত এরা দক্ষিণ দিকে অভিবাসন শুরু করে। মিয়ানমারের কাচিনরা চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ য়ুনান থেকে এসে চিন্দুইন ও ইরাবতী নদী এলাকায় বসতি গড়েছে। কথিত আছে, কাচিনরা তিব্বতি-বার্মান জনগোষ্ঠীর সর্বশেষ অভিবাসী হিসেবে মিয়ানমারে এসেছে।
কাচিনরা মিশুক ও বন্ধুবৎসল। তবে অধিকারসচেতন ও সংগ্রামী। নিজেদের অধিকার আদায়ে এরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারেও প্রস্তুত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বার্মা (মিয়ানমার) স্বাধীন হয়। পরে বিভিন্ন কারণে সেখানকার বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। ১৯৬১ সালে কাচিনরা কাচিন ইন্ডিপেনডেন্ট আর্মি (কেআইএ) গঠন করে। একনায়ক নে উইনের শাসনের বিরুদ্ধে কেআইএ লড়াই করেছে। নে উইনের শাসনামলের পরেও এরা লড়াই করেছে। এখনো কাচিন বিদ্রোহ বেশ চলমান ।
কাচিনরা মিয়ানমারের আটটি প্রধান জাতির একটি। এদের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। কিছু কাচিন বাস করে চীনে।
