বলছি বিদেশী দস্যুপাখি আর্কটিক স্কুয়ার কথা। জলদস্যুদের কথা তোমরা অনেকে শুনেছ। আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার জলদস্যুরা একটি আস্ত জাহাজ পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে যায়, সে বিষয়েও হয়তো তোমাদের জানা থাকবে। জলদস্যু এমন মানুষ, যারা অন্য মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার জন্য এরা শক্তি প্রয়োগ করে। প্রয়োজনে হত্যাও করে। এসব মানবদস্যুর মতো পাখিদের মধ্যেও এক ধরনের দস্যুপাখি রয়েছে। এ পাখির নাম আর্কটিক স্কুয়া। এদের আকাশ ও পানির দস্যু বলা হয়। কারণ এরা এদের প্রায় সব খাবারই অন্যান্য পাখি, বিশেষ করে আর্কটিক টার্ন, পাফিনের খাবার ছিনিয়ে নেয়।
আর্কটিক স্কুয়ার দস্যুমির কায়দা অনেকটা মানবদস্যুদের মতোই। অন্য পাখি যখন খাবার নিয়ে যায়, তখন আর্কটিক স্কুয়া এ পাখিকে ধাওয়া করে। উড়ন্ত অবস্থায়ই এ পাখিকে আক্রমণ করে এবং সংগ্রহ করা খাবারটি ফেলে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। খাবার ফেলতে রাজি না হলেই আর্কটিক স্কুয়া একে নির্দয়ভাবে আক্রমণ করে। আর্কটিক স্কুয়া তার অধিকাংশ খাবারই ছিনিয়ে খায়। তবে কখনো বা বিশেষ ঋতুতে এরা নিজেরাই শিকার করে। পাখির ডিম, ছোট পাখি, পাখির বাচ্চা ইত্যাদি এরা খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। তবে এরা ছোট্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও মাছও খায়। আর্কটিক স্কুয়া বেশির ভাগ সময়ই সমুদ্রে বসবাস করে। তবে মেরু অঞ্চলের গ্রীষ্মকালে এরা তীরে আসে। শীতকালে এরা দক্ষিণ গোলার্ধে ভ্রমণ করে।
আর্কটিক স্কুয়ার দেহের দৈর্ঘ্য ৪১ থেকে ৪৬ সেন্টিমিটার। ডানার বিস্তার ১১০ থেকে ১২৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৩৩০ থেকে ৫৭০ গ্রাম। উত্তর মেরু অঞ্চলে আর্কটিক স্কুয়ার বসবাস।
বলছি বিদেশী দস্যুপাখি আর্কটিক স্কুয়ার কথা। জলদস্যুদের কথা তোমরা অনেকে শুনেছ। আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার জলদস্যুরা একটি আস্ত জাহাজ পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়ে যায়, সে বিষয়েও হয়তো...
