তোমরা হয়তো অ্যাপাপেনের নাম শুনে থাকবে। এর পালক টকটকে লাল। দৃষ্টিনন্দন এ পালক এক সময় শিরস্ত্রাণ ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। সাজসজ্জার কাজে এর পালকের মালা ব্যবহার করত হাওয়াইবাসী। আর পরিয়ে দিত অতিথির গলায়। অ্যাপাপেন হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় পাখি।
এ পাখির দেহের উচ্চতা ১৩ সেন্টিমিটার। একটি পুরুষ অ্যাপাপেনের ওজন ১৬ গ্রাম। স্ত্রী অ্যাপাপেনের ওজন পুরুষটি থেকে কয়েক গ্রাম কম হয়। এদের ঠোঁট সামান্য বাঁকানো। ঠোঁটের রঙ গাঢ় নীল। মাথা ও দেহের পেছনের দিকের রঙ টকটকে লাল। পেট ও লেজের নিচের অংশ সাদা। ডানা ও পায়ের রঙ কালো।
অ্যাপাপেনের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো ওপরের দিকে উল্টানো লেজ। জন্মের সময় এ পাখির গায়ের রঙ কেমন হয়? গোলাপি।
এ পাখি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে খায়। বিশেষ করে ওহিয়া লেহুয়া গাছের ফুল থেকে এরা মধু খেতে পছন্দ করে বেশি। এ পাখি মধুভোজী হলেও বর্ধনশীল অবস্থায় বিভিন্ন রকমের কীটপতঙ্গ ধরে খায়।
অ্যাপাপেন বারবার গান গায়। পুরুষ অ্যাপাপেন প্রায় সারাদিন গান গায়। এদের ছয় রকমের ডাক রয়েছে। ১০ রকম সুরে এরা গান গায়। এরা ওহিয়াগাছেই বেশির ভাগ সময় বাসা তৈরি করে। কারণ ওহিয়াগাছ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২০৫ মিটার উঁচুতে থাকে। ফলে এরা শত্রুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। স্ত্রী অ্যাপাপেন বছরে দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। স্ত্রী পাখিটি ডিমে তা দেয়। এ সময় পুরুষটি ক্রমাগত গান গাইতে থাকে। স্ত্রীটি আর গান গায় না। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে ১৩ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। জন্মের সময় বাচ্চার চোখ বন্ধ থাকে। চোখ খুলতে চার দিন সময় লাগে।