দুই.
তারও কি ক্যারিয়ার গড়ে উঠত না? এখন না হয় ছেলের পেছনে সময় ব্যয় করছে। কিন্তু ছেলে যখন আরো বড় হয়ে উঠবে তখন তার সময় কাটবে কি করে?
মিসেস জেরিন একটু হেসে বললেন, ‘আমাকে তো বলেনি। বলেছে টপ সিক্রেট।’
‘আমি জানি আম্মু, বাবা কি আনবে?’
‘কি?
‘রোবট। ট্রান্সফর্মার রোবট। আমি বাবাকে একটা রোবট আনতে বলেছি। যে রোবট আমাদের ঘর সংসারের টুকিটাকি কাজ করে দেবে।’
‘আনবে বলে থাকলে আনবে। তাই নিয়ে এত উত্তেজনা?’
‘রোবট আনবে বলে নয় আম্মু, বাবা আসবে তাই।’
মিসেস জেরিন ঢোক চিপলেন। গলার কাছটাতে পাউডারের পাফ দিলেন। অনিকের উত্তেজনা বাড়তে থাকুক। নওশাদের সাথে প্লান করে কিছু একটা গল্প ফাঁদতে হবে। এবং সেটা শেষ মুহূর্তে। বাবা আসবে না এখনই বললে ছেলের জন্মদিন পর্যন্ত সময়টা ভালো যাবে না। তার আগে ফেডএক্সের মাধ্যমে নওশাদকে ওর জন্য গিফট পাঠাতে বলতে হবে। অনেক সময় জমকালো গিফট মনের মতো হলে দুঃখ ভুলে থাকা যায়।
মিসেস জেরিন হাতের সোনালী সরু ঘড়িটার দিকে তাকালেন। ফিজিওথেরাপির সিরিয়াল দেওয়া আছে। একটু দেরিতে গেলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। তাদের টাকা দিয়েই ডাক্তারদের চলে!
‘তোমার বাবার সাথে কি তোমার কথা হয়েছে? ম্যাসেঞ্জার, ইমু বা ভাইবারে?’ মিসেস জেরিন কথা ঘোরাতে চাইলেন, ‘কিছু কি বলেছে?’ (চলবে)