বারো.
বাইরের দরজা লক করে একবার মায়ের রুমের দিকে তাকিয়ে নিজের রুমে ঢুকে গেল অনিক। দরজা বন্ধ করলেও ভেতর থেকে লক করতে মানা। অনিকের নিজস্ব রুম হলেও মায়ের কারণে নিজস্বতা আর থাকে না। যদিও মা মাঝে মাঝে রুমে এসে হানা দেয়ার চেষ্টা করে এবং দরজা লক করা পুরোপুরি রেস্ট্রিকটেড। মায়ের ধারণা ইন্টারনেটের অশুভ জগতের বিচরণকেন্দ্রিক। কিন্তু অনেকের সামনে যেন অন্য আরেক জগত...
আজ আর সে জগতে ঢোকার কোনো আগ্রহ পেল না অনিক। এমনকি সন্ধ্যেয় মায়ের সাথে রুফটপ ক্যাফের কোনো ছবিও ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করতে ইচ্ছে করছে না। বুকের মধ্যটা এখনো দুরু দুরু ভয়ে কাঁপছে। হ্যালুসিনেশন শব্দের সাথে সে পরিচিত। এ ধরনের গল্পের বইয়ে অনেক লেখাই পড়েছে এবং তার স্পষ্ট ধারণা ওটা হ্যালুসিনেশনই ছিল। ভিজুয়াল হ্যালুসিনেশন। দাদির কাছ থেকে সুমির আত্মহত্যার কথা শোনা এবং সাথে সাথেই সেই জায়গা পরিদর্শনে যাওয়া ওর মনের মধ্যে এক ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া করেছে। সেই প্রতিক্রিয়ায় তার মধ্যে ক্রিয়া করেছে।
তখনই বুদ্ধিটা মাথায় খেলে গেল অনিকের। এমনকি তাদের কেউ মারা গেছে কিনা দাদিকে এটা জিজ্ঞেসও করেছিল অনিক ওইজা বোর্ডে বসবে বলে। এর আগেও বসেছে সে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কোনো মৃত আত্মা সাড়া দেয়নি। (চলবে)
