চৌদ্দ.
সেটা ছোটরা যেমন পারে না, বড়রাও পারে না। ছোটরা অনেক সময় ভাবে বড়রা ইচ্ছে করলে অনেক কিছু করতে পারে। আসলে তা না। বড়রা ইচ্ছে করলে যা খুশি তাই করতে পারে না। যাই হোক, তুমি বার্থডে গিফটা পেলে সারপ্রাইজড হবে। আর তখন আমাকে জানিও।’
অনিক আবারও এক দিকে মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাল।
বাবা বোধ হয় ওপাশ থেকে একটু কষ্ট পেলেন। ধরা গলায় বললেন, ‘আমার সাথে কথা বলতে না চাইলে কি আর করা! তোমার মায়ের কাছে দাও। তবে এটুকু জেনো, তোমাদের যেমন আমাকে ছাড়া কষ্ট হচ্ছে, আমার কষ্টটা তার দ্বিগুণ। ভাষার কষ্ট, আত্মীয় পরিজনের কষ্ট। বাবা মাকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট।’
অনিক মিনমিন করে বলল, ‘বাবা, ওইজা বোর্ডের মতো কিছু পাঠিও না কিন্তু। ওইটা কাজ করে না।’
বাবা একটু হেসে বলল, ‘ওইটা আমেরিকানদের ফাজলামী। এরকম হাজারো রকম ফাজলামীর জিনিস ওদের আছে। এদিকে মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠাবে, ওদিকে হন্টেড হাউজ বলে বাড়ি রেখে রেন্টে ভূত দেখার ব্যবস্থা করে দেবে।’
অনিক একটু ইতস্তত করে বলল, ‘ভূত কি সত্যিই আছে বাবা?’
‘আরে ধুর ধুর, ভূত ফুত কিছু নেই। আছে বিজ্ঞান। যা নিয়ে আমি কাজ করি, আরো হাজারো মেধাবী মানুষ কাজ করে। তোমাকে সেরকম একটা বিজ্ঞান পাঠিয়েছি। দেখো, এখনই সব বলে দিলে সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে যাবে। (চলবে)
