বলছি সামোয়ান জাতির কথা। এ বিখ্যাত জাতি পলিনেশিয়ান নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সামোয়ানরা সুন্দর দেহ-মনের অধিকারী। এরা মিশুক ও বন্ধুবৎসল। সামোয়ান দ্বীপপুঞ্জ এদের আবাসভূমি। এ দ্বীপপুঞ্জ রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে বিভক্ত। এর একটি কারণ উপনিবেশবাদ।
সামোয়ান জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার । এরা আবাসভূমি সামোয়ার স্বাধীন রাজ্য (সামোয়া) এবং আমেরিকান সামোয়ায়ই শুধু বাস করে না, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এদের বসবাস রয়েছে। বর্তমানে আবাসভূমির চেয়ে বিদেশেই বেশি সামোয়ান বাস করছে।
সামোয়ানরা সামোয়ান ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। সামোয়ান একটি অস্ট্রোনেশীয় ভাষা।
সামোয়ানদের ৯০ শতাংশের বেশি খ্রিষ্ট ধর্ম পালন করে। ইসলাম, হিন্দু, ইহুদি ও বাহাই ধর্মের অনুসারীও আছে।
তারো (কন্দজাতীয় সবজিবিশেষ), রুটিফল (ব্রেডফ্রুট), কলা, নারকেল সামোয়ানদের প্রধান খাদ্য। সামুদ্রিক মাছ এরা বেশ পছন্দ করে। প্রবাসী সামোয়ানরা ইউরোপীয় বা আমেরিকান ঘরানার খাদ্যের দিকে ঝুঁকেছে।
সামোয়ানদের পোশাক আকর্ষণীয়। এদের পোশাকে উল্কির নকশা দেখা যায়। সাদা-কালো রঙে এ নকশা ফুটে ওঠে। ধারণা করা হয়, স্বল্প পোশাকেই সামোয়ানরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। খাটো পোশাক এবং বিকিনির প্রতি এদের অনেকের বেশ ঝোঁক দেখা যায়।
নৃত্য ও সঙ্গীতে সামোয়ানরা পটু। আধুনিক পপ ও রক গান এরা পছন্দ করে। এসব গানের অনেক দেশজ ব্যান্ড দল রয়েছে। তবে এরা পুরনো সামোয়ান গানও গায়। এগুলোর মধ্যে পল্লীগানের প্রাধান্য দেখা যায়। দেশজ সঙ্গীতে এরা ঢোল ও ঢোলজাতীয় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে। নাচেও এগুলো ব্যবহৃত হয়। নৃত্যের তালে তালে এরা হাততালিও দেয়। এটি বিশেষ বাজনা হিসেবে কাজ করে।
প্রাচীন সামোয়ান সমাজে উল্কির কদর ছিল। ১৪-১৮ বছর বয়সে পুরুষদের গায়ে উল্কি আঁকা হতো। বর্তমানে এর প্রচলন কমে গেছে। তবে সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে এর মূল্য অনেক। তাই এরা উল্কি আঁকাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে।