জানো, গাছটার প্রথম দেখা পাই রাঙ্গামাটিতে। লেক পেরিয়ে রাজবন বৌদ্ধবিহার থেকে চাকমা রাজার বাড়ি যাচ্ছিলাম। রাজবাড়ির ঘাটে নেমে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই চোখে পড়ল চালতাগাছের মতো একটা গাছ। কিন্তু গাছ-পাতার চেহারা দেখে ঠিক চালতা বলেও মেনে নিতে পারলাম না। পাতার অবয়ব চালতার মতোই, তবে পাতা অনেক বড়।
পরে গাছটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে বাংলা নাম পেয়ে যাই ‘বনচালতা’। পেয়ে যাই আরো নাম। ইংরেজিতে এ গাছের নাম Karmal, Dog Teak, Dillenia, Nepali elephant apple অসমীয় ভাষায় ‘অকশি’। এটিই হয়তো এ দেশের চাকমাদের ভাষায় অপভ্রংশ রূপে অগোষ্যা হয়ে গেছে। এ গাছের আরো কয়েকটি স্থানীয় নাম পেলাম। যেমন- ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলে এ গাছের নাম আকুশি, আকশি, কারকোটা, আজুগি, আজুলি প্রভৃতি। চট্টগ্রামে হারগাজা বা আরগেজা, সিলেটে একুশ। উপজাতিদের ভাষাতেও এ গাছের নামে বেশ ভিন্নতা রয়েছে। যেমন- হারজোলা (চাকমা, মারমা); অগোষ্যা, হারা (চাকমা), হাজা (ত্রিপুরা), আংজি (খুমি), চামব্রুইন, জামব্রুইন (মগ) প্রভৃতি। ভারতে বিন্ধ্য পর্বতে বসবাসরত আদিবাসীদের কাছে বনচালতা এক মহামূল্যবান ভেষজ বৃক্ষ। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও সিলেটের বনাঞ্চলে বনচালতা গাছ দেখা যায়।
বনচালতা আসলে চালতারই সহোদর। একই পরিবার, একই গণ। বনচালতার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Dillenia pentagyna Roxb. পরিবার Dilleniaceae. বনচালতা মাঝারি আকারের বৃক্ষ হলেও মাঝে মধ্যে বেশ বড় গাছও চোখে পড়ে। গাছ ২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বাকল মসৃণ। পাতা সরল, ডিম্বাকার, কিনারা খাঁজকাটা, পাতার গোড়ার দিকটা একটু সরু। পাতাঝরা স্বভাবের বৃক্ষ অর্থাৎ শীতে পাতা ঝরে যায়। পাতাবিহীন গাছে বসন্তে ও গ্রীষ্মে প্রচুর ছোট হলদে রঙের ফুল থোকা ধরে ফোটে। ফুলে সুগন্ধ আছে। ফল উপগোলাকার, ফলের রঙ কমলা হলুদ, ফলের ভেতরে এক থেকে দু’টি বীজ থাকে।