বিশ.
অনিক বুঝতে পারল আজও এই পদ্ধতিতে যেতে হবে। ল্যাপটপে মুভির কালেকশন দেখে শেষ করতে হবে...
মুভি দেখতে দেখতে ল্যাপটপ ওপেন রেখেই অনিক কখন বিছানায় ঘুমিয়ে গেছে নিজেই জানে না। সকালে মায়ের ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙল তার। ‘পরীক্ষা শেষ। স্কুল ছুটি। তাই বলে পড়ে পড়ে এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাতে হবে। ওঠ। ফ্রেশ হয়ে আয়। টেবিলে নাস্তা দিচ্ছি।’ মা অনিককে ধাক্কিয়ে চলে যাওয়ার উপক্রম করল। অনিক একবার লাল চোখ মেলে মায়ের দিকে তাকিয়ে আবার ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম করল।
‘ওহ কোনো, সাতসকালেই ফেডএক্স থেকে তোর বাবার পাঠানো পার্সেল এসেছে। আমি রিসিভ করে ড্রয়িংরুমে রেখেছি।’ দূর থেকে মায়ের গলা শুনল অনিক।
অনিক তড়াক করে বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠতে গেল। তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে ল্যাপটপের তারতোর ও হেডফোন জট পাকিয়ে বসল। অনিক ওগুলোকে এপাশে ঠেলে দিতে দিতে চোখ কচলাতে কচলাতে চেচাল, ‘আম্মু, কতক্ষণ এসেছে পার্সেলটা? কত বড়? অনেক ভারী?’
মিসেস জেরিন বিরক্ত স্বরে বলল, ‘উঠে এসে দেখ। আমাকে বলতে হবে কেন। নিজের চোখেই দেখ। চক্ষু কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন কর না কি যেন বলে!’
অনিক রুম থেকে বের হতে হতে বলল, ‘আমাদের অত কঠিন কঠিন বাগধারা শেখায় না, স্যারেরা নিজেরাই জানে না তো শেখাবে কি! তোমরা আগে অনেক কিছু শিখে এসেছ।’
‘হ্যাঁ, আবার এখন তোরা যা শিখেছিস তা আমরা কিছুই পারি না, ব্রো ফ্রো কিসব যে বলিস?’ মিসেস জেরিন ছেলের জন্য ডিম পোচে ব্যস্ত হলেন। (চলবে)