জানো, গাজীপুরের কোনো এক এলাকায় বোরো ধানক্ষেতের কিনারা বরাবর উঁচু আইলে তালমাখনার ঝোপগুলো দেখে বেশ ভয় পেয়েছিলাম, যা শক্ত কাঁটা! খালি পায়ে ধানক্ষেতের কাদা মাড়াচ্ছি। পায়ে ওই কাঁটা ফুটলে আর রক্ষে নেই। বিষব্যথা হবে। কোনো কোনো এলাকায় ধানক্ষেতের আইলে বা আইলের ধার দিয়ে খুব জন্মে তালমাখনা। বর্ষজীবী গাছ। না মারলে সহজে মরতে চায় না। গাছও বেশ শক্ত। গাছ প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, তবে বেশির ভাগ গাছই ৩০ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকে। গাছের কাণ্ড শাখায়িত। কাণ্ডের প্রতিটি গিঁট থেকে পাতা আর কাঁটা বের হয়। কাঁটার রঙ হালকা হলদে বাদামি, পাতার রঙ তামাটে সবুজ। কাঁটা বেশ লম্বা ও তীক্ষ্ণ। গিঁট থেকে বের হওয়া বাইরের দিকের পাতাগুলো হয় লম্বা আর ভেতরের দিকের পাতাগুলো হয় খাটো। পাতা আর কাঁটা উভয়ই উপরের দিকে খাড়াভাবে থাকে। ফুলগুলোও ফোটে গিঁট থেকে। ফুলের রঙ উজ্জ্বল বেগুনি বা লালচে বেগুনি, মাঝে মধ্যে সাদাটে হয়। ফুলে খুব ক্ষুদ্র হালকা পশম থাকে। দেখতে বেশ সুন্দর। ফুল ফোটে ডিসেম্বরে। জলাভূমির ধারে এ গাছ জন্মে থাকে। ডোবা নালায় বা ধানক্ষেতে তালমাখনা আগাছা হলেও তার ব্যবহার মূলত ভেষজগাছ হিসেবে। তালমাখনার পাতা, শিকড় ও বীজ গনোরিয়া, জন্ডিস, বাতব্যথা ও মূত্রাশয়ের প্রদাহ সারাতে ব্যবহৃত হয়।
জানো, গাজীপুরের কোনো এক এলাকায় বোরো ধানক্ষেতের কিনারা বরাবর উঁচু আইলে তালমাখনার ঝোপগুলো দেখে বেশ ভয় পেয়েছিলাম, যা শক্ত কাঁটা! খালি পায়ে ধানক্ষেতের কাদা মাড়াচ্ছি।...
