পঁচিশ.

মিসেস জেরিনের কেন জানি মনে হয়, বাবাকে কাছে না পাওয়া, বাবার সাথে বন্ধুত্ব না থাকার কারণেই অনিক এরকম বন্ধুহীনতায় ভোগে, হয়তো কারোর সাথে সহজ হতে পারে না।
মিসেস জেরিন আর কথা বাড়ালেন না। ছেলেকে খাইয়ে দিয়ে নিজেও নাশতা করতে বসলেন। বাসায় বাজার তেমন কিছুই নেই। সুপারশপে যেতে হবে। অনিকের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ।
এখন সারা দিন বাসায়ই বসে ল্যাপটপ আইপ্যাডে চোখ ডুবিয়ে থাকে। ওকে আবার চোখের ডাক্তারের কাছে নেয়া দরকার। ‘ডাক্তার যে চোখের ব্যায়াম দেখিয়ে দিয়েছিল, সকালে উঠে করেছিস?’
অনিক দু’দিকে মাথা নাড়ল। তারপর একটু হেসে বলল, ‘তুমি তোমার হাতের ব্যায়াম করেছ?’
‘সকাল থেকেই রান্নাবান্না করছি, হাতের ব্যায়াম এমনিতেই হয়ে যাচ্ছে। আলাদা আর করা লাগছে না। মায়েদের আলাদা করে ব্যায়াম করা লাগে না। সারা দিনই ব্যায়াম হয়।’
মিসেস জেরিন ময়লার বাস্কেট নিয়ে বাইরে গেলেন।
ডাস্টবিনে ময়লা রেখে আসতে হবে। একটু পরেই ময়লার গাড়ি আসবে। ফিরে এসে তখনো ছেলেকে সেখানে বসে গ্যাজেটগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখলেন। ম্যানুয়ালটা খুঁজে পায়নি মনে হয়। একটার সাথে আরেকটার তার জোড়া দেয়ার চেষ্টা করছে।
(চলবে)