ছাব্বিশ.

মা ভুরু কুচকে বললেন, ‘সাত সকালেই তোর বড় চাচি নিচে নেমে চেঁচামেচি শুরু করেছে কেন রে? জানিস কিছু?’
‘বড় চাচি তো সারাদিনই চেঁচায়। কি নিয়ে চেঁচামেচি করছে?’ অনিক নিরাসক্ত গলায় বলল।
‘রাতে কে ছাদে উঠেছে। ছাদের দরজা খোলা রেখেছে, এসবই বলছে আর কি? বলছে ছেলেপিলে সব উচ্ছন্নে যাচ্ছে। ছাদে উঠে বিড়ি সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে। তুই গিয়েছিলি নাকি ছাদে?’
অনিক দুদিকে মাথা নাড়ল।
‘বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে সিগারেটটেট খাস না তো?’
অনিক বিরক্ত স্বরে বলল, ‘বললাম না আমার কোনো বন্ধু নেই। আর আমি ওসব ছাইপাশ খাই না।’
মিসেস জেরিন আর বেশি কথা বাড়ালেন না। কিশোর বয়সটাই খারাপ। নিষিদ্ধ জিনিসের উপর আলোচনা মনটাকে সেদিকে টানতে পারে। বারবার না বলাই ভালো। ‘তোর বাইরে কোথাও যাওয়া আছে নাকি? আমি একটু বাইরে বের হবো। সুপারশপে যাবো।’
অনিক দুদিকে মাথা নেড়ে মুখে বলল, ‘না। তুমি যাও। আমি এই জিনিসটা সেট করার চেষ্টা করি। আর বাবা তোমার সাথে কন্টাক্ট করলে বলো হলোগ্রাফিক প্রজেক্টর পেয়েছি। কাজ কিভাবে করে বুঝতে পারছি না। কোনো ম্যানুয়ালটালও দেওয়া নেই ওর ভেতরে। মনে হয় দিতে ভুলে গেছে। বলো, বাবা যেন আমাকে একটু ফোন দেয়।’ (চলবে)