সাতাশ.
মিসেস জেরিন যখন বাইরের পোশাক পরে ড্রয়িংরুম পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনিক ডাক দিলো, ‘আম্মু, তোমার কাছে কি কোনো প্রিন্টেড ছবি আছে? আমার ছবি?’
মিসেস জেরিন একটু ভুরু কুঁচকালেন? ছেলে ক্যামেরার মতো যন্ত্রটার গায়ের লেখা পড়তে পড়তে প্রিন্ট করা ছবি চাইছে কেন? ‘ছবি এখন আর প্রিন্ট করা হয় কোথায়? সবই তো মোবাইল ক্যামেরায় তোলা হয়। থেকে যায় ওভাবেই। কেন? কি করবি?’
‘লাগবে একটা কাজে। প্রিন্ট করা কোনো ছবিই নেই?’
‘তোর স্কুলের জন্য তোলা ছবি হলে চলবে? পাসপোর্ট সাইজের ছবি আছে হয়তো!’
অনিক চলবে জানালে মা আবার ঘরের ভেতরে গেলেন ছবি খুঁজতে। আর তখনই অনিক যন্ত্রটার গায়ের লেখা পড়ে বুঝতে পারল প্রিন্টেড ছবি একটা অপশন মাত্র, ওরকম আরো অপশন আছে, ডিজিটাল ছবি, এমনকি এই ক্যামেরায় তৎক্ষণাৎ ছবি তোলারও ব্যবস্থা আছে।
মিসেস জেরিন দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এনে অনিকের হাতে দিতে দিতে বলল, ‘আগেই ওটা দিয়ে মাতব্বরি করিসনে, তোর বাবার কাছে ব্যাপারস্যাপার কি আগে শুনে নে। শেষে চালু হওয়ার আগেই নষ্ট করে মাথায় হাত দিয়ে হাহুতাশ করবি। তুই যেভাবে বললি তাতে তো মনে হয় না, ওই জিনিস এই দেশে কেউ তোকে সেট করে দিতে পারবে।’
মায়ের কথায় যুক্তি আছে। অনিক নিজেও মাথা চুলকাতে লাগল। রিস্ক নিয়ে এই প্রিন্টেড ছবি ঢুকিয়ে দিয়ে না একটা ঝামেলায় পড়ে যায় সে। (চলবে)