ক্ষুদ্র একটি জাতির কথা বলছি, যার নাম অ্যাসমত। এদের বসবাস ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে। দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে, অ্যারাফুরা সাগরের কাছে একটি অঞ্চলে এরা বাস করে। অ্যাসমতদের আবাসভূমির আয়তন প্রায় ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার। এ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নিজেদের আবাসভূমিকে অ্যাসমত নামে অভিহিত করে।
এদের গায়ের রঙ কালো। এরা কথা বলে অ্যাসমত ভাষায়। এ ভাষার রয়েছে পাঁচটি উপভাষা- ক্যাসুয়ারিনা উপকূল অ্যাসমত, ইয়াওসাকর অ্যাসমত, মধ্য অ্যাসমত, উত্তর অ্যাসমত ও সিতাক। অ্যাসমতরা দেশজ ধর্ম বিশ্বাস অনুসরণ করে। কিছু গ্রহণ করেছে খ্রিষ্টধর্ম।
অ্যাসমত আবাসভূমির বিভিন্ন অংশে প্রায় প্রতিদিন বন্যা হয়। এ জন্য এরা কাঠের খুঁটির ওপর ঘর নির্মাণ করে। কিছু অ্যাসমতকে গাছের ঘরেও বাস করতে দেখা যায়। অনেক সময় ঘরগুলোর উচ্চতা মাটি থেকে প্রায় ২৫ মিটার।
অ্যাসমতরা সাগু, মাছ ও বন্যপ্রাণী খায়। অ্যাসমত জনজীবনে কাঠের ব্যবহার বেশ।
কাঠ দিয়ে এরা বাসস্থান ও নৌকা তৈরি করে এবং কাঠে শিল্পকর্ম খোদাই করে। কাঠের কাজে এরা খুবই দক্ষ। এদের তৈরি করা কাঠের হাতিয়ারের প্রতি বিশ্বের অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ দেখা যায়। নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের মাইকেল সি রকফেলার কালেকশন এবং আমস্টারডামের ট্রোপেন মিউজিয়ামে অনেক অ্যাসমত হাতিয়ারের সংগ্রহ রয়েছে।
অ্যাসমতদের পোশাক খুবই সাধারণ এবং বেশ সংক্ষিপ্ত।
অ্যাসমত জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার।