জানো, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে ওসমানীয়দের (তুর্কি) নির্মিত বিভিন্ন কীর্তি বা স্থাপনা। এ স্থাপনাগুলোরই একটি মেহমেদ পাশা সকোলভিক সেতু। এর অবস্থান ইউরোপের মুসলমানপ্রধান দেশ বসনিয়া-হারজেগোভিনার ভিসগ্রাদে। দ্রিনা নদীর ওপর স্থাপিত সেতুটি বর্তমানে বিশ্বসভ্যতার অংশ। ২০০৭ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্য স্থানের মর্যাদায় ভূষিত হয়। নোবেল বিজয়ী লেখক ইভো আন্দ্রিক ‘দ্য ব্রিজ অন দ্য দ্রিনা’ (দ্রিনা নদীর সেতু) নামে একটি বই লিখেছেন। এর ফলে এখন সেতুটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপে। এ সেতু ওসমানীয় বিশাল স্থাপত্য ও পূর্তকর্মের (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি। সেতুর দৈর্ঘ্য ১৭৯.৫০ মিটার। এর সড়কপথের প্রস্থ চার মিটার। স্থপতি মিমার কোকা সিনান। তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের প্রকৌশলী ও স্থপতি; ওসমানীয় পূর্তকর্মের ধ্রুপদী পর্যায়ের পুরোধা। সেতুটি সিনানের মহৎ শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচিত। এর পাথর ও চুন-সুরকির অনন্য নির্মাণকাজ এনেছে এক ভিন্ন মাত্রা। সেতুতে রয়েছে পাথরের কাজ করা ১১টি খিলান।
ধনুকাকৃতি খিলানের দুই স্তম্ভ বা পিলারের মাঝের দূরত্ব (স্প্যান) ১১ থেকে ১৫ মিটার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেতুর ১১টি খিলানের তিনটি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পাঁচটি ধ্বংস হয়। তবে এ খিলানগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়। ১৯৯২ সালে বসনিয়া যুদ্ধ চলাকালে ভিসগ্রাদ হত্যাযজ্ঞের সময় এ সেতুতে অসংখ্য মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।
মেহমেদ পাশা সকোলভিক সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৫৭৭ সালে। এ সেতুর নামকরণ করা হয় ওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী (গ্র্যান্ড ভিজির) সকোল্লু মেহমেদ পাশার নামানুসারে। তিনি সুলতান প্রথম সোলায়মান ও সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের অধীনে সাম্রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দ্য টার্কিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ঞওকঅ) সেতুটি পুনর্নিমাণের জন্য ৩.৫ মিলিয়ন ইউরো প্রদান করে।
উল্লেখ্য, একসময় ইউরাপ, এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ ওসমানীয় সাম্রাজ্যের (তুরস্ক) অংশ বা অধীন ছিল।
জানো, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে ওসমানীয়দের (তুর্কি) নির্মিত বিভিন্ন কীর্তি বা স্থাপনা। এ স্থাপনাগুলোরই একটি মেহমেদ পাশা সকোলভিক সেতু। এর অবস্থান...
