তেত্রিশ.
কোনো কাজ না থাকায় ভাবল, ছাদে গিয়ে আরেকবার সেই জায়গাটা দিনের বেলাতেই দেখে আসা উচিত।
মিসেস জেরিন টিভি দেখছিলেন। অনিককে ক্যাজুয়াল বাসার পোশাকে বের হতে দেখে বুঝল বাইরে কোথায় যাচ্ছে না। গেলেই যেন তিনি খুশি হতেন। ছেলেটা সারাটা দিন বাসায় থাকে। গান শোনে, কম্পিউটারে, মোবাইলে, ট্যাবে পড়ে থাকে, গেমস খেলে, প্লে স্টেশনে গেমস খেলে, ফেসবুকে পড়ে থাকে। তিনি বিরক্ত হলেও জোর গলায় কিছু বলতে পারেন না। বকাবকিও করতে পারেন না। বেচারার বাবা থাকে না। কিছু বললেই যদি নিজের রুমে ...!
মিসেস জেরিন নরোম গলায় বললেন, অনিক এই পোশাকে কোথায় যাচ্ছ? বাইরে গেলে বাইরের ড্রেস পরে যাও?’
‘কোথাও যাচ্ছি না আম্মু। এই একটু ছাদে যাব।’
মিসেস জেরিনের ভ্রু একটু কুঁচকে গেল। সকালে বড় ভাবী রাতে ছাদের দরজা খোলা থাকার কথা বলছিল, কেউ বিড়ি সিগারেট খেতে উঠেছে কিনা? ইঙ্গিতটা খানিকটা অনিককে লক্ষ্য করেই, কারণ অনিক ছাড়া এরকম উঠতি বয়সী আর কোনো ছেলে এই বাড়িতে থাকে না। তাহলে কি অনিক নেশাটেশা করা শুরু করেছে নাকি? বিড়ি সিগারেট? ইয়াবাটিয়াবা? ড্রাগ নিচ্ছে নাকি?
সন্দেহটা দানা বাধতেই মিসেস জেরিন টিভি সিরিয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকলেও ওখানে বউ শ^াশুড়ির দ্বন্দটা উপভোগ করতে পারছিলেন না।
(চলবে)