আটত্রিশ.

অনিকের এই দাদার বাড়িটা এজমালি। তিন কাঠা জমির ওপর বাড়িতে দাদার ছেলেরাই থাকে। কোনো ভাড়াটিয়া নেই। দোতলায় দাদা-দাদী থাকেন। দাদা রিটায়ার্ড সমবায় কর্মকর্তা। তিনতলায় অনিকেরা থাকে। চারতলায় মেজো চাচা-চাচী। মেজো চাচাও বাবার মতোই ইঞ্জিনিয়ার। নিঃসন্তান হওয়ায় ওরা এক ধরনের মনোঃকষ্টে দিনযাপন করেন। দাদা-দাদীর কষ্টটাও সেখানেই। নিচতলায় থাকেন একমাত্র ফুপু। ফুপার ব্যবসা আছে। ব্যবসার কাজে ফুপা প্রায় সময় বাইরে বাইরে থাকেন। ফুপু-ফুপার একমাত্র মেয়ে রিমি আপু হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করেন। শুধুমাত্র ছুটিছাটায় বাড়ি আসেন। তার সাথে অনিকের সম্পর্কটাও খুব একটা গাঢ় নয়, পানসে। এর জন্য অবশ্য অনিকের অন্তর্মুখিতাই দায়ী। এ কারণে পাঁচতলা পুরানো আমলের এই বাড়িটা প্রায়শ নিস্তব্ধই থাকে। যে বাড়িতে ছোট বাচ্চা-কাচ্চা থাকে না, সে বাড়ির প্রাণ থাকে না। অনিকের প্রায়শই দাদার এই বাড়িটাকে প্রাণহীন মনে হয়।
বড় চাচীকে হতভম্ব অবস্থায় রেখে অনিক ছাদে উঠে এলো। ভর দুপুরের কারণে কিনা কে জানে, চারদিকে যেন বেশ সুনসান নীরবতা, তেমন কোনো হাকাহাকি, শব্দ নেই। (চলবে)