পচান্ন.
আমি ছাদের দরজায় তালা দিয়ে বাসায় ঢুকলাম। তুই তো জানিস, ঘরে কেউ না থাকলে আমি ঘর অন্ধকার করে রাখি। কারেন্ট বিল কম আসে। তো অন্ধকার ঘরে ঢুকেই মনে হলো রান্নাঘরে কেউ খুটখাট করে শব্দ করছে। ইঁদুর টিদুরই ভাবলাম। কিন্তু শুধু শব্দ নয়, কেমন যেন মানুষের মতো দীর্ঘশ^াস ফেলার শব্দ শুনলাম। ডাইনিং লাইট জ¦ালতেই মনে হলো, সুমির মতো কেউ একজন রান্নাঘরে ছিল, আলো জ¦লতেই সটকে সরে একটু আড়াল হয়ে দাঁড়াল। তারপর ভাবলাম চোর ছ্যাচোড় নয় তো! ডাইনিং টেবিল থেকে কাচের জগটা হাতে তুলে নিলাম। চোরটোর হলে মাথায় ভাঙব। ওমা, গিয়ে দেখি কোথায় কি? কোথাও কেউ নেই। কিন্তু কেউ একজন ছিল। মেজোইক ফ্লোরের উপরে ভেজা ভেজা মেয়েলি পায়ের দাগ!’
শুনেই অনিকের ভয় ভয় করতে লাগল। কিন্তু চৌদ্দ বছরের কিশোর ভয় পেলেও সেটা প্রকাশ করে না। অনিক চাচীকে অভয় দিয়ে বলল, ‘বড়োচাচী ও আপনার চোখের ভুল। কি দেখতে কি দেখেছেন। মাথায় ওসব ঘুরছিল বলেই বোধ হয়।’অনিক বিড়বিড় করে বলল, ‘চাচী, আমি একটু দেখি।’ বলে সে চাচীকে সাথে নিয়েই চাচীদের কিচেনে গেল। পায়ের ছাপটাপ কিছু নেই। দরজার সাথে একটা হাউসকোট টাইপের মোটা কাপড়ের এপ্রণ ঝুলছে। (চলবে)