সাতষট্টি.
অনিক ঘোঁৎ করে একটা শব্দ করল। তার কানে মোবাইল ধরা থাকলেও চোখ ঘরের মধ্যের অন্ধকারের দিকে। অন্ধকারে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। মানুষের মতো কিছু একটা!
‘শোন, বেশি রাত জাগিসনে। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আছে ঘুমাতে অসুবিধে হবে না। একা অন্ধকার রুমে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছিস নাকি? চার্জার লাইট দেবো? নাকি আমার রুমে এসে ঘুমাবি?’
অনিক বিরক্ত স্বরে বলল, কিছু লাগবে না মা। আমি ঘুমাতে যাচ্ছি। এখানেই।’
‘গুড নাইট। স্লিপ টাইট।’
অনিক প্রত্যুত্তরে গুড নাইট বলতে পারল না। কারণ ওর কাছে যে কিছু একটা নড়াচড়া করছে মনে হচ্ছিল, সেটা আসলে একটা নয়, দুইটা বা আরো ভালো ভাবে বললে একজন নয়, দু’জন।
অনিক আম্মুর কল শেষ করে মোবাইলের টর্চ জ্বেলে রুমের চার দিকে ঘুরিয়ে আনল। না কোথাও কেউ নেই! থাকার কথাও নয়! অনিক কোথাও যেন পড়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শব্দ হলো, বাথরুমে কেউ নেই অথচ বাথরুম ব্যবহার করার শব্দ! তারও মনে হলো, এই ঘরে সে ছাড়া আর কেউ নেই থাকলে সেটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হতো! আম্মুর অফারটা মন্দ ছিল না। টর্চের আলো জ্বেলে গুটি গুটি পায়ে গিয়ে আম্মুর মশারির ভিতর ঢুকে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা। এই এলাকায় একবার ট্রান্সফর্মার বাস্ট হলে সকালের আগে আর ঠিক হয় না! (চলবে)