ঊনসত্তর.
অনিকের মনে হলো ওইজা বোর্ডটা কাঁপছে। কিছু একটা কি ওইজা বোর্ডের ওপর ভর করেছে? নাকি ভয়ে তার হাত পা কাঁপছে বলেই ওইজা বোর্ড কাঁপছে। অনিকের উপলব্ধি হলো যে মানুষের ভয়ের বেশির টুকুই বোধ হয় মনে। বাস্তবের ভয়ের চেয়ে মনের ভয়ই বেশি। না হলে এতক্ষণ দিব্যি সে রুমের মধ্যে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছিল কিন্তু যখনই মনে হলো খাটের নিচে কিছু আছে আর অমনি মনের ভয় জেঁকে বসেছে।
অনিক বেডের ওপর বসে বসেই ওইজা বোর্ডসহ যা কিছু বেডে ছিল সবই নিচে নামিয়ে দিলো। তারপর কোনমতে মশারি করে মশারির মধ্যে ঢুকে পড়ল। মশারির জাল এবং খাচা কেমন জানি একটু নিরাপত্তা দেয়। যেন মনে হয় মশারির মধ্যে কোনো ভূত প্রেত ঢুকতে পারবে না।
মশারির মধ্যে অতি সাবধানে বালিশে কোনোমতে মাথা দিলো। অনিকের এরকম ভাব যেন রুমের মধ্যে অশরীরিরা ঘোরাফেরা করছে, সামান্য একটু শব্দ হলেই ওর দিকে দৃষ্টি আকর্ষিত হবে, তখন এদিকে চলে আসবে। ঘুম আসছে না। বালিশে মাথা ঠেকিয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে বুঝতে পারল সর্বনাশের যেটুকু বাকি ছিল তাও হয়ে গেছে। মোবাইলের চার্জ এক অঙ্কের কোটায় এসেছে। এখন যে একটু ফেসবুক টুক করে সময় পার করবে তার উপায় নেই। ওহ, পাওয়ার ব্যাংকটাও যদি আগে থাকে চার্জে দেওয়া থাকত! মরার ইলেকট্রিসিটি এভাবে যাবে কে জানত? (চলবে)