একাত্তর.
তাছাড়া ইলেকট্রিসিটি এলে যে এক ধরনের শব্দ হয়, মাথার উপর ফ্যানের শব্দ সেগুলোর কিছুই হয়নি। সুইচবোর্ডের কোনো ইনডিকেটর বাতিও জ্বলেনি। জ্বলেনি তার ল্যাপটপের আলো। এমনকি হলোগ্রাফিক ক্যামেরাযন্ত্রের স্ক্রিনও ভূতকালো হয়ে পড়ে আছে। তাহলে হলোগ্রাফিক ইমেজ এলো কোত্থেকে?
ভয়ে অনিকের গলা শুকিয়ে গেল। এমনকি প্রস্রাবের সেই বেগও চলে গেল। ও তাকিয়ে রইল হলোগ্রাফিকের সেই উজ্জ্বল সাদাটে চকচকে আলোর মানুষের দিকে। মানুষটাকে চিনতে তার ভুল হলো না। তার ফেসবুক ফ্রেন্ড মানহা। ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে অনিকের নিজেরই হলোগ্রাফিক প্রতিমুর্তি। অনিক মশারি উঁচিয়ে মশারির বাইরে বেরিয়ে এলো। খাটের নিচের ভূতের ভয়ও রইল না। মানহার প্রায় কাছাকাছি গিয়ে মানহাকে চেনা সত্ত্বেও জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে?’
অবাক করা ব্যাপার, অনিকের মনে হলো শব্দটা তার নিজের গলা দিয়ে বের হলো না। শব্দটা বের হলো তার হলোগ্রাফিক প্রতিমূর্তি থেকে, যেন সেই হলোগ্রাফিক ছায়াই মানহাকে জিজ্ঞেস করছে ‘তুমি কে?’
এবং আরো অবাক করা কা-, একজন জীবন্ত মানুষের মতো অথবা জীবন্ত মানুষের ছায়ার মতো মানহার হলোগ্রাফিক ইমেজ অনিকের ইমেজের দিকে ঘুরল, তারপর যেন রিনরিনে মেয়েলি অথচ যান্ত্রিক কণ্ঠে উত্তর দিলো, আমি তোমার বন্ধু, মানহা!’
‘তা তো জানিই। (চলবে)