বলছি তারামাছের কথা। এরা সমুদ্রে বাস করে । তারামাছ নাম হলেও মাছের সাথে এদের কোনো সম্পর্কই নেই। মাছ মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণীভুক্ত। কিন্তু তারামাছ অমেরুদণ্ডী। শিরদাঁড়া নেই এদের। এটি একাইনোডার্মাটা বা কণ্টকত্বকী পর্বের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী। এর নাম এস্টেবিয়াস। তারার মতো দেখতে। এর পাঁচটি হাত রয়েছে। হাত বলতে মানুষের মতো হাত ভাবা ঠিক না। মূলত এর পাঁচ কোণে তারার মতো পাঁচটি অঙ্গ বিস্তৃত থাকে। পাঁচ হাতের মধ্যে পৌষ্টিক নালী বা খাদ্যনালী থাকে। হাতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত একটি গভীর লম্বা নলের মতো খাদ থাকে। খাদের দু’পাশে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিউব পা। হাতের পৃষ্ঠভাগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঁটাযুক্ত আবরণ রয়েছে, যা ত্বক নামে পরিচিত। ত্বকের নিচে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোমল অস্থির প্লেট থাকে। ফলে এর দেহ খুব মজবুত হয়। খাদের দু’পাশেও হাড়ের মালা থাকে। পেশির সাহায্যে তারামাছ এই হাড় নাড়ায়। পাঁচটি হাত যেখানে মেশে সেখানে রয়েছে মুখ। এরা আকারে ৪-৬ সেন্টিমিটার হতে পারে।
তারামাছ যেকোনো ধরনের ছোট ছোট প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে। টিউব পায়ের সাহায্যে এরা সমুদ্রের ভেজা বালুচরে সরাসরি মাটির নিচে ডুবে থাকতে পারে। ভাটা শেষে জোয়ারের শুরুতে এরা পানির সাথে সমুদ্রের কূলের দিকে উঠে আসতে থাকে। অনেকে এদের পানির ভেতরে পাতা ভেবে ভুল করে বসে। এ সময় তারামাছ সংগ্রহ সহজ হয়। এরা খুবই ধীরগতির প্রাণী। তারামাছ মানুষ কিংবা পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী নয়। তবে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। দেখতে সুন্দর বলে অনেকে তারামাছ ঘরে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করে। গবেষণাগারে ফর্মালিনে ভিজিয়ে রেখেও এটি সংরক্ষণ করা হয়। আর সেটা করা হয় গবেষণার কাজে।