জানো, ইয়াকুব বেগ এক দুঃসাহসী অভিযাত্রীকের নাম। সামরিক প্রতিভাবলে তিনি কাশগড়িয়া রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর আমির হন। ১৯ শতকের মধ্য এশিয়ার ইতিহাসে এই ব্যক্তি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছেন। তার আমির হওয়ার ইতিকাহিনী আকর্ষণীয়। কাশগড়িয়া রাজ্যটি গড়ে ওঠে বর্তমান চীনের জিনজিয়াংয়ের (পূর্ব তুর্কিস্তান) বিশাল এলাকায়। রাজধানী কাশগড়।
ইয়াকুব বেগের জন্ম ১৮২০ সালে, কোকান্দ খানেইটে। ১৭০৯ সালে খানশাসিত এই রাজ্যটি বুখারা খানেইট থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর রাজধানী ছিল কোকান্দ। বর্তমান উজবেকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এই কোকান্দ শহরের অবস্থান। ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত কোকান্দ খানেইট টিকে ছিল। এই রাজ্যের চাকরিতে ইয়াকুব বেগ দ্রুত উন্নতি করেন। ১৮৪৭ সালে তিনি আক-মেচেট দুর্গের অধিপতি নিযুক্ত হন। পরে দুর্গটি রুশদের দখলে আসে।

আর ইয়াকুব বেগ চলে যান বুখারায়। ১৮৬৫ সালে তিনি কোকান্দ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। জিনজিয়াংয়ে হুই বিপ্লবের সুযোগে তিনি কাশগড়, ইয়ারকন্দ দখল করে নেন। ১৮৬৭ সাল নাগাদ তিনি আকসু, কুচা ও অন্যান্য নগরীসহ ওই এলাকার বেশির ভাগ জায়গায় নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। বিজিত অঞ্চলে তিনি নতুন রাজ্য কাশগড়িয়া গড়ে তোলেন। বর্তমান চীনের জিনজিয়াং বা পূর্ব তুর্কিস্তানের বিশাল এলাকায় ছিল এই রাজ্যের বিস্তৃতি। তিনি নিজেকে কাশগড়িয়ার আমির (শাসক) ঘোষণা করেন। প্রথম দিকে তিনি কোকান্দ খানেইটের অধীন ছিলেন। পরে তিনি কাশগড়িয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ইয়াকুব বেগের উইঘুর বাহিনী চীনা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তারা ছিলেন চীনের কিং শাসকদের অধীন। কিং রাজবংশ চীন শাসন করে ১৬৪৪ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত। ইয়াকুব বেগের কাছে তু মিং পরিচালিত চীনা বাহিনী পরাজিত হয়। ইয়াকুব বেগ আতালিক গাজি (বিজয়ী পিতা) উপাধি গ্রহণ করেন।
ইয়াকুব বেগের মৃত্যু ১৮৭৭ সালে। ধারণা করা হয়, তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পরে চীনের কিং রাজবংশ কাশগড়িয়া দখলে নেয়। কথিত আছে, কাশগড়ে তার সমাধি ছিল, যা চীনারা ১৯৭৮ সালে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করে।