ফুলা একটি জাতির নাম। এরা ফলানি বা ফুলবি নামেও পরিচিত। এরা পশ্চিম আফ্রিকার বেশ পুরনো একটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী। ধারণা করা হয়, এদের উদ্ভব হয় ৮ বা ১১ শতকে। বার্বার জাতির সাথে এ জাতির যোগসূত্র দেখা যায়। বার্বাররা উত্তর আফ্রিকা থেকে সেনেগাল অঞ্চলে আসে। এখানকার জনগোষ্ঠীর সাথে বার্বারদের মিশ্রণের ফলে নতুন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ফুলানির উদ্ভব হয়। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে (৯০০-১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ) এরা পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য আফ্রিকায়ও এদের কিছু কিছু দেখা যায়। ফুলানি বেশ বড় জনগোষ্ঠী। জনসংখ্যা প্রায় চার কোটি। এরা বাস করে গিনি, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, সেনেগাল, মালি, সিয়েরালিওন, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, বুরকিনা ফ্যাসো, বেনিন, নাইজার, গাম্বিয়া, গিনি বিসাউ, ঘানা, চাদ, মৌরিতানিয়া, মিসর, টোগো, আইভরিকোস্ট ও সুদানে। কোনো দেশেই এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। তবে গিনিতে এরা মোট জনসংখ্যার ৪০ দশমিক তিন শতাংশ, আর সেনেগালে ২৪ শতাংশ।
১৯ শতকের প্রথম দিকে ফুলানিরা ফুলানি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। পরে এ সাম্রাজ্য ইউরোপীয়রা দখল করে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ স্বাধীন হলেও ফুলানিরা তাদের হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পায়নি। ফুলানিদের বেশির ভাগ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। কিছু পালন করে খ্রিষ্ট ধর্ম, আর কিছু অনুসরণ করে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ধর্ম।
ফুলানিরা কথা বলে ফুলানি ভাষায়। তবে বিভিন্ন দেশে বাস করায় এরা সাধারণত দ্বিভাষী হয়। কেউ বা তার চেয়েও বেশি ভাষা শেখে।
ফুলানিরা ঐতিহ্যগতভাবে মেষপালক এবং যাযাবর। তবে গরু, ছাগলসহ অন্যান্য পশুও এরা পালন করে। বর্তমানে ফুলানিদের বেশির ভাগ শহর বা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে।
বজরা, দুধ ও গোশত ফুলানিদের প্রধান খাদ্য। এরা সবজিও খায়।
ফুলানিরা গম্বুজাকৃতির ঘর তৈরি করে শুষ্ক ঋতুতে। এ ঘরে বজরার কাঠি ব্যবহার করা হয়। এটা এদের ঐতিহ্য। তবে এখন অনেক ফুলানি মাটি বা কংক্রিট ব্লকের তৈরি ঘরে বাস করে।
ফুলানিরা আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। তবে এদের পোশাক মুসলিম ঘরানা হিসেবে বিবেচিত।
ফুলা একটি জাতির নাম। এরা ফলানি বা ফুলবি নামেও পরিচিত। এরা পশ্চিম আফ্রিকার বেশ পুরনো একটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী। ধারণা করা হয়, এদের উদ্ভব হয় ৮...
