একশত ষোলো.

তার পরেও যদি হঠাৎ কোনো কারণে বড় চাচা ঢোকে সেজন্য আলমারীর কোণে আড়াল হয়ে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ধৈর্য হারা হয়ে পড়ল অনিক। বড় চাচার বাইরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে। অনিক ওর মোবাইলটা সাইলেন্ট করে রাখতে ভুলে গিয়েছিল। আম্মুর হঠাৎ ফোনে মোবাইল শব্দ করে রিংটোন বেজে উঠল। অনিক প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল হাতড়ে বের করতে করতে অনেক সময় ধরে রিং বেজে গেল। মোবাইল বন্ধ করতে করতেই বড় চাচার গলা শুনতে পেল, ‘মোবাইল বাজে কোথায়?
মিনু কি ভুল করে বাসায় মোবাইল রেখে গেছে? কিন্তু ওরকম ভুল তো সে করে না।’ তারপর স্বগোক্তির মতো করে বলল, ‘চারিদিকে মোবাইলগুলো এত শব্দ করে যে মনে হয় যেন নিজের মাথার মধ্যে মোবাইল বাজছে।’
অনিক ধরা পড়ার ভয়ে অসাড় হয়ে রইল। বড় চাচা একবার শিহাব ভাইয়ার ঘরের বন্ধ দরজা খুলে অন্ধকারের মধ্যেই তাকিয়ে আবার দরজা বন্ধ করে দিলো। ভয় আতঙ্ক আর অন্ধকার ঘরের কারণেই কী না কে জানে, অনিকের মনে হলো এই ঘরে সে একা নেই, তার সাথে সাথে আরো একজন আছে, আর সেই একজন শরীরী নয়, অশরীরী! (চলবে)