আমরা জানি, গ্রামের এমনকি শহরের বন্ধুরা মুড়ি, মুড়কি, খই, বাতাসা, কদমা, মুরালি, খাজা, গজা, ঝুড়িভাজা, পাপড় ভাজা, হাওয়াই মিঠাই, বাদাম পাটালি, খিল্লা, শিঙা, ছাঁচ, মিছরি, মোয়া, লাড্ডু ইত্যাদি লোকজ খাবারের সাথে পরিচিত। এর সাথে হয়তো খাগড়াই বা নকুলদানার সাথেও পরিচিত। এসবই আমাদের গ্রামীণ খাবারের ঐতিহ্য; সাধারণত গ্রামের মেলায় পাওয়া যায়। আধুনিক যুগের মুখরোচক নানা পদের মিষ্টি আসার আগে এসব খাবারই ছিল গ্রামের মানুষের পছন্দের খাবার। মেলায় গিয়ে এ ধরনের প্রায় সব খাবারই দেখা যেত। এখন অনেক গ্রামীণ খাবার শহরে চলে এসেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে যাকে খাগড়াই বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলে তাকেই বলা হয় নকুলদানা। মিষ্টিজাতীয় এ খাবারটি দেখতে অনেকটা খইদানার মতো। তাই একে খইদানা বা খরইও বলে। রঙ ধবধবে সাদা, গোটা গোটা, শক্ত ও ঝুরঝুরে। প্রধানত চিনি জ্বাল দিয়ে ঘন করে এটা তৈরি করা হয়। দেখতে খইয়ের মতো বলে অনেকের ধারণা খইয়ের গায়ে চিনি মিশিয়ে এটা তৈরি করা হয়। চিনির সাথে ময়দা দিয়ে এক বিশেষ কৌশলে এটা তৈরি করা হয়। শুধু চিনি দিয়েও খাগড়াই তৈরি করা যায়। কখনো কখনো এর সাথে কর্পূর ও এলাচ মিশিয়ে সুগন্ধ করা হয়। খাগড়াই পূজার নৈবেদ্য সাজাতেও ব্যবহার করা হয়। কোনো কোনো অঞ্চল থেকে খাগড়াই হারিয়ে যাচ্ছে।