জানো, বেলুন আমাদের দেশে সুপরিচিত। তবে এটি এ দেশের কোনো ঐতিহ্য নয়, এসেছে ইউরোপ থেকে। যা হোক, বাঁশ ও বাঁশের বাঁশি আমাদের ঐতিহ্য। এ দেশের ঐতিহ্যবাহী আড়বাঁশি বাঁশ থেকেই তৈরী। তেমনি বেলুনবাঁশির মূল অংশ যে বাঁশি, সেটিও তৈরি হয় বাঁশ থেকে। বেলুনবাঁশি তৈরির জন্য অত্যন্ত সরু ও ফাঁপা বাঁশ তিন থেকে চার ইঞ্চি লম্বা করে দু’টি টুকরা নেয়া হয়। একটি থাকে সরু ও অন্য টুকরা এমন মোটা থাকে যার ভেতরে সরু টুকরাটি শক্ত করে ঢুকিয়ে লাগানো যায়। সরু টুকরার মাথা বন্ধ থাকে এবং নলাকার সেই টুকরার মাথার এক পাশে পাতলা করে পাতের মতো চাঁচ তুলে জিহ্বার মতো সামান্য আলগা করা হয়। এই প্রান্ত পুরোপুুরি মোটা অংশের এক প্রান্তে ঢুকিয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে ফুঁ দিলে বাঁশির মতো ‘ভ্যাঁ...অ্যাঁ...’ করে বাজে। ফুঁ বন্ধ করলে বাঁশি বাজাও থেমে যায়। কতক্ষণ আর ফুঁ দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে রাখা যায়? তাই বাঁশিতে অবিরাম বাতাস প্রবেশের জন্য একটা বেলুন লাগিয়ে দেয়া হয়। তখন ওই বাঁশের বাঁশিই হয়ে যায় বেলুনবাঁশি। সরু প্রান্তে ফুঁ দিয়ে বেলুন ফুলিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বেলুন থেকে বাতাস বাঁশির ভেতরে ঢুকতে থাকে আর বাঁশি বাজতে থাকে। শিশুরাও আনন্দে হাসতে থাকে। বেলুন চুপসে গেলেই বাঁশি বাজা থেমে যায়। এখনো মেলায় গেলে বেলুনবাঁশি দেখা যায়।