লোকে বলে, ‘দেখতে বড় ওজন নাই, মুখে দিলে খবর নাই’...। এমন একটা খাবারের নাম হাওয়াই মিঠাই। শুধু চিনি দিয়ে তৈরি অত্যন্ত হালকা গোলাপি বা সাদা রঙের এই হাওয়াই মিঠাই একটি বিশেষ কায়দায় হাতে চালানো এক ধরনের যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা হয়। এটি আমাদের গ্রামীণ মেলার এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্য।
মিঠাই তৈরি করা যন্ত্রের পাত্রটি অনেকটা ছোট গামলা বা কাটা ড্রামের মত। পাত্রের ভিতরের গায়ে লাগানো থাকে মিঠাই গুড়া। পাত্রটির কেন্দ্রে একটা খুঁটির মত অংশ থাকে, সেটি বেশ গরম থাকে। এর সাথে চিনির কণা লেগে গলতে থাকে আর জোরে ঘুরানোর ফলে সেই চিনি থেকে আঁশ উঠতে থাকে। পাত্রটি ঘোরানোর ফলে গায়ে লেগে থাকা মিঠাই বা চিনি দানা তুলার আঁশের মত আঁশ তুলতে তুলতে পাত্রটি ভরে ফেলে। সেসব আঁশ একটি সরু কাঠিতে জড়ানো হয়। পরে পলিথিন ব্যাগে ঢুকিয়ে ব্যাগের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে বন্ধের আগে ধরার কাঠিটার খানিকটা অংশ ব্যাগের বাইরে রাখা হয়। পাত্রের একটা যন্ত্র দিয়ে দৈনিক গড়ে ৩০০ টি হাওয়াই মিঠাই তৈরি করা যায়। প্রতিটি হাওয়াই মিঠাই বিক্রি হয় কমবেশি ২০-৩০ টাকায়। নগরীর পার্কে, রাস্তায়, ফুটপাতে ও মেলাগুলোতে বিশেষ করে যেসব জায়গায় শিশুরা বেশি আসে সেখানে হাওয়াই মিঠাই বেশি বিক্রি হয়। শিশুরা খুব পছন্দ করে হাওয়াই মিঠাই। এ দেশের যে কোনো মেলায় হাওয়াই মিঠাই এক আকর্ষনীয় বস্তু। শহরেও সমান আকর্ষণীয়। ঢাকায় হাওয়াই মিঠাই পাওয়ার জন্য এখন আর শুধু মেলার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। এখন অনেকেই হাওয়াই মিঠাইয়ের কারখানা দিয়ে হাওয়াই মিঠাই তৈরিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। ঢাকার সাভার ও মিরপুরে হাওয়াই মিঠাইয়ের কারখানা আছে। সেখান থেকে হকাররা কিনে এনে পথে পথে ঘুরেও হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে। ফলে ঢাকায় এখন সারা বছরই হাওয়াই মিঠাই পাওয়া যায়।
ছবি: লেখক
