একশত ত্রিশ.
সুযোগের অপেক্ষায় থাকলে সুযোগ আপনিতেই দুয়ারে এসে ধরা দেয়। অদ্ভুতভাবে গাজীপুরে যাওয়ার মতো একটা সুযোগ তৈরি হয়ে গেল অনিক আর মানহার। অনিকের আম্মু কেনাকাটায় চাচীদের সঙ্গ দেবে বলে সারা দিন বাড়িতে আসবে না এরকম ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে মানহার আব্বু আম্মুও একদিনের জন্য একটা হোটেলের কনফারেন্সে রাত অবধি থাকবেন, মানহারও সারা দিনে খবরদারি করার কেউ নেই। এখন বাকি থাকে সেতু আর তামিম। ওরা একটু ডানপিটে টাইপের আর স্কুল বন্ধ থাকায় ওদের বাড়ি থেকেও কোনো আপত্তির জায়গা নেই। ঢাকার মধ্যে একটা রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সাথে গেট টুগেদারে যাচ্ছে বলে সহজেই পার পেয়ে গেল।
ওরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে একটা মিটিং পয়েন্ট ঠিক করে নিল। সেখান থেকে একসাথে বাসস্টান্টে এসে এসি বাসে গাজীপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। প্রথমে রেন্ট এ কারের গাড়িতে বা উবার ভাড়া করে যাবে ভাবলেও তাতে দুর্ঘটনার রিস্ক থাকে বলে বড় এসি বাসে যাওয়াই সিদ্ধান্ত নিল। ছুটির দিন হওয়ায় বাসটা তুলনামূলক ফাঁকাই। ওরা পিছনের দিকে চার সিট দখল করে বাসটাকে নিজেদের প্রাইভেট গাড়ির মতোই করে তুলল, আড্ডায় মেতে উঠল সবাই। আর এই উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের হৈহুল্লোড়ে সবাই অভ্যস্ত, মনে মনে বিরক্ত হলেও কেউ প্রকাশ করে না। কারণ এরা কিছু মানে না। (চলবে)
