একশত বত্রিশ.
গার্মেন্টসটা খুঁজে পেতে খুব একটা বেগ পেতে হলো না। পাশের গলিও পাওয়া গেল। কিন্তু বস্তিটাইপ কলোনি আর খুঁজে পায় না ওরা। শেষমেশ হাঁটতে হাঁটতে পিচ রাস্তা পেরিয়ে ইটের রাস্তা ধরে গাছপালা ঘেরা অর্ধ শহর অর্ধ গ্রাম টাইপের একটা এলাকায় গিয়ে সেই কলোনির দেখা পেল। ওদের কপাল ভালো ছুটির দিন হওয়ায় কলোনির দুই রুমের ঘরে সুমির বাবা-মা দুজনকেই পেয়ে গেল। সুমির বাবা-মা দুজনেই গার্মেন্টেসে চাকরি করে, আজ ডে-অফ। অনিকের পরিচয় শুনে ওরা এত অবাক হলো, আর বড়লোকের চার ছেলে-মেয়ে শুধুমাত্র সুমির জন্য সুমির বিচারের জন্য এতটা পথ এসেছে শুনে ওরা দুজনেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ল। এরা যেন এতদিন পর সেই মৃত মেয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। সুমির আরো ছোট ছোট দুই বোন আছে, এরা বাড়িতেই থাকে, স্কুলে যায়। ওরা তাড়াতাড়ি দোকান থেকে বিস্কুট চানাচুর আনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
সুমি যে আত্মহত্যা করেনি, হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ছাদে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই ব্যাপারটা বাবা-মা মনে প্রাণে বিশ^াস করে। মা ভেজা চোখে বললেন, ‘আমার সুমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে না, ও খুব শক্তপোক্ত মেয়ে, ও আত্মহত্যা করেনি।’
(চলবে)
