একশত তেত্রিশ.
সুমির বাবাও বিড়বিড় করে বলল, ‘সুইসাইড করার মতো কিছু তো হয়নি বাবারা, তাহলে সুইসাইড করবে কেন?’
অনিক এবারে বলে উঠল, ‘কিন্তু আঙ্কেল আপনারাই তো সুইসাইড করেছে স্বীকার করে নিয়ে পুলিশের কাছে বলেছিলেন।’ অনিক একটু ইতস্তত করল, ‘চাচী তো বলে লাখ টাকা দিয়ে নাকি আপনাদের মানিয়ে নিয়েছিল।’
সুমির বাবা মাথা নিচু করে বসে রইল। তারপর বিড়বিড় করে বলল, ‘বাবা, তুমি ছোট মানুষ তোমাকে সব কথা কিভাবে বলি। তোমরা বড়লোক মানুষ, আমরা যখন গিয়ে বুঝলাম, ন্যায় বিচার পাবো না, সব টাকায় দফা রফা হয়ে যাবে, সুমি সুইসাইড করেছে এটাই টাকায় প্রমাণ হবে তখন তোমার চাচা-চাচীর প্রস্তাবে রাজি না হয়ে আমাদের উপায় ছিল না। সংসারে টানাটানি, সুমির ছোট ছোট দুই বোনের ভবিষ্যৎ। যে চলে গেছে সে তো আর ফিরে আসবে না, গরিবেরা বিচারও পায় না, শুধু শুধু কিছু টাকা দিয়ে যদি সংসারের সুষম হয় এই ভেবেই রাজি হয়েছিলাম।’ সুমির বাবা জামার কোণে চোখ মুছল। ‘কিন্তু তারপর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি পাইনি। সবসময়ই একটা অপরাধবোধে ভুগেছি। যেন মেয়ের হত্যার জন্য আমিও খানিকটা দায়ী।’(চলবে)
